খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের মাদারবাড়িয়া উত্তর সীমানা থেকে রোনবাগ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণ কাজে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নিয়ম না মেনে দ্রুতগতিতে কাজ করার কারণে সদ্য করা কার্পেটিং মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই উঠে যেতে শুরু করেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে সড়কের বাকি অংশের কাজ বন্ধ করে দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরুর শুরু থেকেই নির্মাণে গাফিলতি ছিল। পুরোনো সড়কের ওপর জমে থাকা কাদা ও মাটি পরিষ্কার না করেই তার ওপর সামান্য পিচজাত উপাদান ছিটিয়ে কার্পেটিং করা হয়েছে। কোথাও কোথাও ভাঙা ইট, রাবিশ এবং নিম্নমানের পাথর ব্যবহারের কথাও তারা জানান। ফলে মাত্র দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই নতুন ঢালাই হাতের চাপ বা হালকা আঘাতেই উঠে যাচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এই সড়ক উন্নয়ন, একটি বক্স কালভার্ট নির্মাণ এবং বেদকাশী এলাকার আরও প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন মিলিয়ে পুরো প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৬৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। কাজের দায়িত্ব পেয়েছে মেসার্স কামরুল এন্ড ব্রাদার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চুক্তি অনুযায়ী কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ৩ এপ্রিল এবং শেষ হওয়ার কথা ১৪ নভেম্বর। তবে দেরিতে কাজ শুরু হওয়ায় সময়সীমার চাপেই দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের একাধিক অংশে সদ্য করা কার্পেটিং ফেটে গেছে এবং কোথাও কোথাও স্তর আলগা হয়ে উঠছে। প্রকল্পের কোনো তথ্যসংবলিত সাইনবোর্ডও সেখানে চোখে পড়েনি। কাজ চলাকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ঠিকাদারি প্রতিনিধি বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাকেও উপস্থিত পাওয়া যায়নি।
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জামাল ফারুক বলেন, শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ছিল। মাটি ও ধুলার ওপর নামমাত্র পিচ ব্যবহার করায় এখন তা সহজেই উঠে যাচ্ছে। স্থানীয়দের চাপেই কাজ বন্ধ করতে হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. শহিদুল জানান, নিচু অংশে রোলার চালানোর সময়ই ফাটল দেখা দেয়। তাঁর আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে ওই অংশ আরও ভেঙে পড়তে পারে এবং চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।
অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দায়িত্বে থাকা মো. হাসান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়ম মেনেই কাজ চলছে এবং পর্যায়ক্রমে কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, উপরের স্তর সাময়িকভাবে আলগা দেখালেও পরবর্তী স্তর যুক্ত হলে তা ঠিক হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের এক প্রকৌশলী জানান, অভিযোগের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে পাওয়া গেছে। সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
মন্তব্য