সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম-সদৃশ উপসর্গে আরও তিনজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে চলমান হামের পরিস্থিতি, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে তিনজনের মৃত্যু ঘটলেও একই সময়ে নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। অর্থাৎ, উপসর্গভিত্তিক মৃত্যুর ঘটনা থাকলেও পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হামের কারণে নতুন করে কোনো প্রাণহানি হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২২ জুন পর্যন্ত দেশে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। এই সময়ে হামের উপসর্গে মোট ৫৯০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৩ জন।
রোগ সংক্রমণ ও আক্রান্তের পরিসংখ্যানও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৬৫ জন এবং একই সময়ে নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ১৬০ জন। দীর্ঘ সময় বিবেচনায়, ১৫ মার্চ থেকে ২২ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৩ হাজার ৭৫৫ জনে এবং নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ১৭১ জনে।
অন্যদিকে, হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার সংখ্যাও উল্লেখ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। একই সময়ে সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৭ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৭৩ হাজার ৯৮৫ জন।
পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র বোঝাতে নিচে তথ্যগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
সূচক
গত ২৪ ঘণ্টা
১৫ মার্চ থেকে ২২ জুন পর্যন্ত
উপসর্গে মৃত্যু
৩ জন
৫৯০ জন
নিশ্চিত হামে মৃত্যু
০ জন
৯৩ জন
সন্দেহজনক রোগী
৯৬৫ জন
৯৩,৭৫৫ জন
নিশ্চিত রোগী
১৬০ জন
১১,১৭১ জন
হাসপাতালে ভর্তি (সন্দেহজনক)
তথ্য পৃথকভাবে নেই
৭৭,৭৪৩ জন
সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র
তথ্য পৃথকভাবে নেই
৭৩,৯৮৫ জন
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও একটি বড় অংশ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে। তবে উপসর্গভিত্তিক মৃত্যুর সংখ্যা এখনো উদ্বেগের বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এ ধরনের সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, তারা সারাদেশে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মন্তব্য