খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ই জুন ২০২৬, ৭:৪৬ পিএম

জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুল ইসলামের মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে সভাপতির পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দিয়েছে উপজেলা বিএনপি। একই সঙ্গে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির বিদ্যমান কার্যনির্বাহী কমিটি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত ঘোষণা করে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এই সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির তৎকালীন সভাপতি সাইদুল ইসলামের মাদক সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হলে স্থানীয় জনমনে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপি বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং মঙ্গলবার রাতেই সাইদুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ জারি করে। এর পাশাপাশি, ঘটনাটির সঠিক সত্যতা ও সুষ্ঠু তদন্তের উদ্দেশ্যে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
শনিবার বিকেলে তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। এরপর শনিবার রাতেই তদন্ত কমিটির দাখিলকৃত চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পায় উপজেলা বিএনপি। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর রাতেই সাইদুল ইসলামকে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্ত করে এস এম কায়কোবাদকে আহ্বায়ক করে ৩১ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
উপজেলা বিএনপির দেওয়া অব্যাহতি পত্রে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সাইদুল ইসলামকে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি প্রদান করা হলো। এর পর থেকে তার সঙ্গে দলীয় কোনো কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত হলে, তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত দায় হিসেবে গণ্য করা হবে; দল এর কোনো দায়ভার নেবে না।
ঘটনার সময়রেখা, তদন্তের বিবরণ ও গৃহীত সাংগঠনিক পদক্ষেপের একটি সারসংক্ষেপ নিচে টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| সাংগঠনিক ও ঘটনার সূচক | ঘটনার বিবরণ ও সুনির্দিষ্ট তথ্য |
| অভিযুক্ত নেতার নাম ও পদ | সাইদুল ইসলাম, সভাপতি, গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপি, আক্কেলপুর |
| ঘটনার সূত্রপাত ও মাধ্যম | গত মঙ্গলবার ফেসবুকে মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল হওয়া |
| উপজেলা বিএনপির প্রথম পদক্ষেপ | মঙ্গলবার রাতেই কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ ও ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন |
| তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার সময় | শনিবার বিকেল |
| সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সময় | শনিবার রাত (তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর) |
| গৃহীত মূল শাস্তিমূলক ব্যবস্থা | সাইদুল ইসলামকে সভাপতির পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান |
| কমিটি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত | গোপীনাথপুর ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্ত ও নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন |
| নতুন কমিটির গঠন ও নেতৃত্ব | ৩১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি; এস এম কায়কোবাদ (আহ্বায়ক) |
| উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব | কামরুজ্জামান কমল (সভাপতি, আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপি) |
এই সাংগঠনিক ব্যবস্থার বিষয়ে অব্যাহতিপ্রাপ্ত নেতা সাইদুল ইসলাম জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। তিনি আরও দাবি করেন, “শনিবার বিকেলে তদন্ত হয়েছে এবং তদন্তের সময় আমার পক্ষে বেশির ভাগ লোকজন কথা বলেছেন। কিন্তু তদন্ত কমিটির সদস্যরা চলে যাওয়ার পর রাতেই আমাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আমি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এই অব্যাহতির চিঠি পেয়েছি এবং ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি ভেঙে দেওয়ার বিষয়টিও জেনেছি।”
অন্যদিকে, আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান কমল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, মাদক সেবনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাটি দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী। এই কারণে সাইদুল ইসলামকে প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটির দেওয়া প্রতিবেদন ও সুপারিশের ভিত্তিতেই সাইদুল ইসলামকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ও সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মন্তব্য