বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় শিশু রিফাত হোসেনকে অপহরণ করে নির্মমভাবে হত্যা এবং মরদেহ গুমের চাঞ্চল্যকর মামলায় পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। ঘটনার সময় নাবালক থাকা আরও পাঁচজনকে শিশু আইন অনুযায়ী দশ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
রোববার দুপুরে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-১-এর বিচারক আনোয়ারুল হক এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় মোট এগারো আসামির মধ্যে আটজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি তিনজনের মধ্যে দুইজন দীর্ঘদিন ধরে পলাতক এবং একজন বিচার চলাকালীন সময়ে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানা যায়।
মামলার দণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকা
| শ্রেণি | নাম | রায় |
|---|---|---|
| মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত | আবুল কালাম আজাদ | মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ড |
| মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত | সাগর | মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ড (পলাতক) |
| মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত | সেলিম ইসলাম | মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ড (পলাতক) |
| মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত | মেহেদী হাসান | মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ড |
| মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত | রাজু ইসলাম (পাঁচফুল) | মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ড |
| শিশু অবস্থার আসামি | সজিব হাসান | ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড |
| শিশু অবস্থার আসামি | মফিজুল ইসলাম | ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড |
| শিশু অবস্থার আসামি | জাহিদ হাসান | ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড |
| শিশু অবস্থার আসামি | বোরহান আলী | ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড |
| শিশু অবস্থার আসামি | বায়েজিদ হোসেন | ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড |
ঘটনার পটভূমি
মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত শিশু রিফাত হোসেন শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস হাটখোলা এলাকার প্রবাসী এনামুল হকের সন্তান। আসামিদের সবাই রিফাতের পরিবারের পরিচিত এবং প্রতিবেশী ছিলেন। অভিযোগে বলা হয়, প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর আবুল কালাম আজাদ একাধিকবার এনামুল হকের কাছে টাকা দাবি করেন।
ঘটনার দিন তিনি এক লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সেই দিন বিকেলেই শিশু রিফাত নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
ঘটনার তিন দিন পর পাশের গ্রামের একটি সেতুর নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে আসে।
তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া
রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ তদন্তে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি, হত্যা এবং মরদেহ গুমের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। মামলার শুরুতে এগারো জনকে আসামি করা হলেও একজন বিচার চলাকালীন সময়ে মৃত্যুবরণ করেন।
বিচার শেষে আদালত প্রাপ্তবয়স্ক পাঁচ আসামিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। পাশাপাশি অর্থদণ্ড ও দীর্ঘমেয়াদি সশ্রম কারাদণ্ডও আরোপ করা হয়।
রায়-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া
রায় ঘোষণার পর নিহত শিশুর পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানায়। আদালত পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে এবং মামলার নথি উচ্চ আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
স্থানীয়ভাবে এই রায়কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা শিশু নির্যাতন, অপহরণ ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা প্রদান করেছে। এলাকাবাসীর মতে, এই রায় ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।









