রাশিয়া যুদ্ধে বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুর অভিযোগ

ভালো আয়ের আশায় ঋণ নিয়ে রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বান্দুরা ইউনিয়নের হাসনাবাদ গ্রামের বাসিন্দা সাঈদ মোল্লা (৩৫)। কিন্তু কর্মসংস্থানের সেই প্রত্যাশিত যাত্রা শেষ হয়েছে মৃত্যুর খবরের মধ্য দিয়ে। পরিবারের দাবি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।

সাঈদ মোল্লা নবাবগঞ্জ উপজেলার বান্দুরা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাসনাবাদ গ্রামের মৃত আনসের মোল্লার ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি হারু মোল্লা নামেও পরিচিত ছিলেন। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। বাবার মৃত্যুর পর তিনি মাকে সঙ্গে নিয়ে বসবাস করতেন। তার পরিবারে স্ত্রী ও সাত বছর বয়সী আরিয়ান নামে এক সন্তান রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাশের দোহার উপজেলার ইকরাশি এলাকার জুলহাস নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে বিদেশে কাজের সুযোগের কথা শুনে সাঈদ রাশিয়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য তিনি প্রায় ১৬ লাখ টাকা ঋণ করেন। চলতি বছরের ৭ মে তিনি রাশিয়ার উদ্দেশে দেশ ত্যাগ করেন।

পরিবারের দাবি, রাশিয়ায় পৌঁছানোর চার থেকে পাঁচ দিন পর তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা মেডিকেল সম্পন্ন করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। পরে রাশিয়া থেকে ফোন করে জানানো হয় যে, কাজে নেওয়ার কথা বলে প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশিকে একটি সেনা ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়েছে। পরিবার আরও দাবি করে, ওই ব্যক্তিদের মধ্যে মাত্র চারজন জীবিত ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন।

স্বজনদের অভিযোগ, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর সাঈদ এবং তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন বাংলাদেশিকে প্রথমে একটি ক্যাম্পে রাখা হয়। পরবর্তীতে কাজ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের রাশিয়ার সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। পরিবারের ভাষ্যমতে, সাঈদের সঙ্গে থাকা অন্য বাংলাদেশিদের কাছ থেকে তারা জানতে পারেন যে, তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছিল।

গত ১৩ জুন দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে সাঈদের স্ত্রী রেশমা বেগম ফোনের মাধ্যমে তার মৃত্যুর সংবাদ পান বলে পরিবার জানিয়েছে। তবে মৃত্যুর স্থান, সময় এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিবারের কাছে বিস্তারিত কোনো সরকারি তথ্য এখনও পৌঁছেনি বলে জানা গেছে।

ঘটনার প্রধান তথ্য

বিষয়তথ্য
নিহতের নামসাঈদ মোল্লা (হারু মোল্লা)
বয়স৩৫ বছর
বাড়িহাসনাবাদ গ্রাম, বান্দুরা ইউনিয়ন, নবাবগঞ্জ
বিদেশ যাত্রার তারিখ৭ মে
ঋণের পরিমাণ১৬ লাখ টাকা
পারিবারিক অবস্থাস্ত্রী, এক পুত্রসন্তান ও মা
মৃত্যুর খবর পাওয়ার সময়১৩ জুন দিবাগত রাত
পরিবারের দাবিরাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত

সাঈদের মা মিনি বেগম তার ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহায়তা কামনা করেছেন। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, সাঈদের উপার্জনের ওপরই পরিবারের জীবিকা অনেকাংশে নির্ভরশীল ছিল। তার আকস্মিক মৃত্যুর খবর পরিবারের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে।

স্বজনরা সাঈদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে যারা তাকে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা একজন বাংলাদেশি নাগরিক কীভাবে যুদ্ধসংক্রান্ত পরিস্থিতির মধ্যে জড়িয়ে পড়লেন—এই প্রশ্নের উত্তর জানতে এখন অপেক্ষা করছে তার পরিবার। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশের দাবিও ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।