খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪৭ পিএম

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখায় গত মাসে ভারতের ওপর অতিরিক্ত আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে ভারতের ওপর মোট শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে।
তবে এখানেই শেষ নয়। রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে ওয়াশিংটন রুশ বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে। ফলে ফের ভারতের ওপর মার্কিন শুল্ক চাপানো হতে পারে—এমন প্রশ্নও উঠে এসেছে।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এ খবর প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট রবিবার সতর্ক করে বলেছিলেন, রাশিয়ার থেকে যারা তেল কিনছে, তাদের ওপর আরও শুল্ক চাপানো হতে পারে। তার ঘণ্টাখানেক পরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হলে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে বলেন: “হ্যাঁ, আমি প্রস্তুত (আরও শুল্ক চাপানোর জন্য)।”
তবে এর বাইরে তিনি আর বিস্তারিত কোনও মন্তব্য করেননি।
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই স্কট বেসেন্ট বলেন, “যে সব দেশ রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনবে, তাদের ওপর শুল্ক বাড়ানো হলে রাশিয়ার অর্থনীতি ভেঙে পড়বে। তাতে রাশিয়া চাপে পড়বে এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনায় বসতে বাধ্য হবেন।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এখন প্রতিযোগিতা চলছে—ইউক্রেনীয় সেনারা কতদিন টিকতে পারবে বনাম রাশিয়ার অর্থনীতি কতদিন টিকতে পারবে। যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন একসঙ্গে আরও নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপ করতে পারে, তবে রাশিয়ার অর্থনীতি সম্পূর্ণরূপে ধসে পড়বে।”
আগের শুল্ক আরোপ
| সময়কাল | পদক্ষেপ | কারণ |
| ২০২৩ | ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক আরোপ | রাশিয়া থেকে তেল আমদানি |
| ২০২৪ (আগস্ট) | আবারও ২৫% অতিরিক্ত শুল্ক | রাশিয়ার অর্থনীতিকে চাপে রাখার কৌশল |
| ২০২৪ (সেপ্টেম্বর) | নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি | রাশিয়ার বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর চাপ |
এর আগে আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের আগে ভারতের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হয়েছিল। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনছে বলেই পুতিন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অর্থ পাচ্ছেন।
বর্তমানে রাশিয়ার কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি তেল আমদানি করছে চীন এবং ভারত। তবে তালিকায় চীন শীর্ষে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনও চীনের ওপর একই ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। বরং ভারতের ওপরই চাপ সৃষ্টি করছে।
ফলে স্কট বেসেন্টের হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্পের সংক্ষিপ্ত মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মন্তব্য