নারায়ণগঞ্জের সদর এলাকায় পুলিশ ও র্যাব-১১ এর যৌথ অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা ও চোলাই মদসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার রাত আনুমানিক ৯টা ২৫ মিনিট থেকে ১১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত সদর থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে একযোগে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অভিযান চলাকালে আটক ব্যক্তিদের দেহ ও অবস্থান তল্লাশি করে ৪৪টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ৫ লিটার চোলাই মদ এবং ২৫ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত এসব মাদকদ্রব্য জব্দ তালিকার মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধারকৃত আলামত যথাযথভাবে নথিভুক্ত করে পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সদর থানা এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক মাদক ও অন্যান্য অপরাধ সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, রাতের বিশেষ সময়ে সদর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আলাদা আলাদা দল গঠন করে নজরদারি চালানো হয়। সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে একাধিক স্থানে একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়, যাতে কেউ পালিয়ে যেতে না পারে। পরিকল্পিত এ অভিযানে দ্রুত ও সমন্বিতভাবে তল্লাশি চালিয়ে মাদক উদ্ধার ও গ্রেপ্তার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকায় মাদকবিরোধী তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে লক্ষ্য করে ইয়াবা, গাঁজা ও চোলাই মদের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি বাড়িয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পাশাপাশি মাদকের উৎস, সরবরাহ চক্র এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
নিচে আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক তথ্য তুলে ধরা হলো—
| নাম | বয়স | পূর্ববর্তী অবস্থা |
|---|---|---|
| মিঠু মিয়া | ৪০ | একাধিক মাদক মামলায় অভিযুক্ত |
| পাভেল | ৩৭ | মাদক সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলা চলমান |
| রবিন হোসেন | ৩১ | স্থানীয় অভিযোগ রয়েছে |
| হাসিবুর রহমান জিহাদ | ২৬ | মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগ |
| মাইনদ্দিন | ২৫ | স্থানীয় অপরাধ সংশ্লিষ্ট অভিযোগ |
| শরিফ হোসেন | ৩৭ | মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগ |
| রিফাত মিয়া | ২৫ | সন্দেহভাজন মাদক সম্পৃক্ততা |
| দুলাল মিয়া | ৪০ | পূর্বে অপরাধ সংশ্লিষ্ট অভিযোগ |
| দেলোয়ার হোসেন | ৬২ | বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে |
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে এ ধরনের যৌথ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং এলাকার নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
