ঢাকার সাভারে একটি মাদক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে আসামিপক্ষের লোকজনের অতর্কিত হামলার শিকার হয়েছেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দুই সদস্য। সাভার মডেল থানার দুই পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা চালিয়ে আসামিপক্ষের লোকজন ওই আসামিকে পুলিশের হেফাজত থেকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত পৌনে আটটার দিকে সাভারের বক্তারপুর এলাকায় এই সহিংস ঘটনাটি ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত ওই দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে জরুরি চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আহত হওয়া ওই দুই পুলিশ সদস্য হলেন সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক এস এম শামীম এবং সহকারী উপপরিদর্শক মশিউর রহমান খান। সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উপপরিদর্শক এস এম শামীম ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে একটি মাদক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করার জন্য তিনি এবং সহকারী উপপরিদর্শক মশিউর রহমান খান সাভারের বক্তারপুর এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের একপর্যায়ে রাত সাড়ে সাতটার দিকে তারা সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত আসামি রফিকুল ইসলামকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।
অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশ কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করার পর যখন তার হাতে লোহার হাতকড়া পরানো হচ্ছিল, ঠিক তখনই রফিকুল ও তার পূর্বপ্রস্তুত থাকা সহযোগীরা পুলিশের ওপর অতর্কিত আক্রমণ করে। তারা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে এবং লাঠিসোঁটা দিয়ে আঘাত করে। এর কিছুক্ষণ পর তাদের সাথে আরও বেশ কিছু স্থানীয় দুষ্কৃতকারী যোগ দিলে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সঙ্ঘবদ্ধ দল দুই পুলিশ সদস্যকে চারদিক থেকে অবরুদ্ধ করে গণহারে মারধর শুরু করে। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে হামলাকারীরা পুলিশ হেফাজত থেকে আসামি রফিকুল ইসলামকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার বিবরণ, আহত পুলিশ সদস্য এবং অভিযুক্তদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচের তালিকায় দেওয়া হলো:
| ক্রমিক নং | বিবরণ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষ | ব্যক্তি ও পদের নাম | বর্তমান অবস্থা ও আইনগত পদক্ষেপ |
| ১ | আহত প্রথম পুলিশ সদস্য | এস এম শামীম (উপপরিদর্শক) | সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন |
| ২ | আহত দ্বিতীয় পুলিশ সদস্য | মশিউর রহমান খান (সহকারী উপপরিদর্শক) | সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন |
| ৩ | পরোয়ানাভুক্ত মূল আসামি | রফিকুল ইসলাম | পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনতাইকৃত ও পলাতক |
| ৪ | হামলাকারী চক্র | রফিকুলের সহযোগী ও স্থানীয় দুষ্কৃতকারী | ৪০ থেকে ৫০ জনের অজ্ঞাতপরিচয় সঙ্ঘবদ্ধ দল |
| ৫ | চিকিৎসার স্থান | সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স | জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা প্রদান |
সরকারি কর্তব্যে বাধা ও হামলার খবর পেয়ে সাভার মডেল থানার কাছাকাছি অবস্থান করা পুলিশের অন্য একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় ওই দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। তবে পুলিশের অতিরিক্ত দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পূর্বেই মূল হামলাকারী ও ছিনতাই হওয়া আসামি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ফারদিন আবদুর রাজ্জাক এই বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানান, গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে আহত অবস্থায় দুই পুলিশ সদস্যকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গেছে যে, তাঁদের উভয়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এবং সংবেদনশীল অংশে লাঠি ও ইটের আঘাতের সুনির্দিষ্ট চিহ্ন রয়েছে। তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, একটি নিয়মিত মামলার আইনগত পরোয়ানা তামিল করতে গিয়ে আমাদের দুই পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্যরা বর্তমানে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পরিদর্শক নূর মোহাম্মদ আরও জানান, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং পুলিশের ওপর হামলার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে এবং এলাকায় বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
