খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই আগস্ট ২০২৬, ১:৩৯ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ও প্রবেশে ইচ্ছুক বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ভিসা প্রক্রিয়ায় কঠোরতা বাড়াতে নতুন ও নজিরবিহীন পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা, ঘৃণা বা চরমপন্থা উসকে দেন—এমন বিদেশি নাগরিকদের মার্কিন ভিসা প্রদান করা হবে না এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রচলিত ভিসাও বাতিল করা হতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প প্রশাসনের এই শক্ত অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন সরকার দেশে বসবাসরত ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তায় কোনো প্রকার আপস করবে না। নতুন এই ভিসা কাঠামোর মূল লক্ষ্য হলো বিদেশ থেকে আগত ব্যক্তিদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বৈষম্য, চরমপন্থী আদর্শ ও সহিংস কার্যকলাপের বিস্তৃতি রোধ করা।
ইহুদিবিদ্বেষ ও চরমপন্থা রোধ: ইহুদিবিদ্বেষমূলক প্রচারণা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বা সংঘাত সৃষ্টি করে এমন কোনো বিদেশি নাগরিককে দেশে ঢুকতে না দেওয়ার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক নজরদারি: আন্তর্জাতিক সংস্থা বা বিভিন্ন রাষ্ট্রের উসকানিমূলক বা ইসরায়েলবিরোধী চরমপন্থী বক্তব্য, যা সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলোর বক্তব্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, সেগুলোকে মার্কিন প্রশাসন অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরীক্ষা: ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল, প্রকাশ্য বক্তব্য, চরমপন্থী দল বা গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন এবং উসকানিমূলক পোস্টগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আব্রাহাম চুক্তি: মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসন ‘আড্রাহাম চুক্তি’ (Abraham Accords)-র পরিধি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করছে। আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের সুসম্পর্ক স্থাপনই এই অঞ্চলের আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে বলে মনে করে ওয়াশিংটন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছিল যে, কেবল ইসরায়েল রাষ্ট্রের সমালোচনা করলেই মার্কিন ভিসা বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করা হবে। তবে স্বতন্ত্র ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা ও মার্কিন প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে এর স্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে।
ভিসা নীতি সংক্রান্ত তথ্যের বিবরণ নিচে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিভ্রান্তিকর বা সামাজিক মাধ্যমের দাবি | মার্কিন সরকারের প্রকৃত প্রশাসনিক নীতি |
| মূল লক্ষ্য | ইসরায়েল সম্পর্কিত যেকোনো সমালোচনা বন্ধ করা। | ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও বিদ্বেষ ছড়ানো রোধ করা। |
| আইনি ভিত্তি | সকল প্রকার রাজনৈতিক মতপ্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা। | যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ। |
| সমালোচনার সুযোগ | গঠনমূলক সমালোচনা করলেও ভিসা বাতিল হবে। | সাধারণ রাজনৈতিক মতামত বা সরকারের সমালোচনার ওপর নিষেধাজ্ঞা নয়। |
| আবেদনের প্রভাব | ইসরায়েলবিরোধী পোস্ট থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা বাতিল। | জাতীয় নিরাপত্তা বা চরমপন্থার সুনির্দিষ্ট ঝুঁকি থাকলে ভিসা প্রত্যাখ্যান। |
| পর্যবেক্ষণ ক্ষেত্র | আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সাধারণ মতামত। | আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিদেশি রাষ্ট্রীয় উসকানিমূলক বার্তা। |
| শিক্ষা/স্টুডেন্ট ভিসা | সকল বিদেশি শিক্ষার্থীর রাজনৈতিক মত পর্যবেক্ষণ। | সহিংস উসকানি বা চরমপন্থী সংগঠনের সাথে সরাসরি যোগসূত্র। |
| ডিজিটাল স্ক্রিনিং | কেবল ইসরায়েল-সম্পর্কিত সাধারণ পোস্ট দেখা। | চরমপন্থী আদর্শ, উসকানিমূলক ভিডিও ও সহিংস হুমকির উপাদান বিশ্লেষণ। |
| আঞ্চলিক কূটনীতি | কেবল সামরিক পদক্ষেপ জোরদার করা। | ‘আব্রাহাম চুক্তি’র মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরি। |
| মানদণ্ডের ধরণ | রাজনৈতিক মতামত কেন্দ্রিক ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত। | স্বরাষ্ট্র বিভাগ ও পররাষ্ট্র দপ্তরের সমন্বিত নিরাপত্তা প্রটোকল। |
| ফ্যাক্ট-চেক সিদ্ধান্ত | গণহারে ভিসা বাতিলের তথ্যটি শতভাগ সত্য। | দাবিটি অতিরঞ্জিত; কারণ সাধারণ রাজনৈতিক বাকস্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে। |
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী নাগরিক ও বিদেশিদের একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত বাকস্বাধীনতা প্রদান করে। তবে সহিংসতার উসকানি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সমর্থনের মতো বিষয়গুলো সরাসরি নিরাপত্তা ঝুঁকির আওতায় পড়ে। ফলে অভিবাসন ও অ-অভিবাসন ভিসা পর্যালোচনার ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা এবং ইহুদিবিদ্বেষ রোধের বিষটিকেই প্রাধান্য দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।
মন্তব্য