আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে মঙ্গলবার নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি বাড়তি আগ্রহের কারণে বাজারে এই পরিবর্তন লক্ষ্য করা হয়। বিশেষ করে সরকারি বন্ডের আয়ের হার কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে এসে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণ দীর্ঘদিন ধরেই সংকটকালীন সময়ে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রবণতা আরও শক্তিশালী হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সীমিত যুদ্ধবিরতির পরও পূর্ণাঙ্গ শান্তি প্রতিষ্ঠা না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও অঞ্চলটি এখনো অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাজারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। দুই দেশের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য আসায় বিনিয়োগকারীরা স্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা পাচ্ছেন না। ফলে স্বর্ণের চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের স্পট ও ফিউচার উভয় বাজারেই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক তথ্য এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারকদের বক্তব্য স্বর্ণের দামের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে সুদের হার কমানো বা বাড়ানোর ইঙ্গিত বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বিনিয়োগ বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি বন্ড থেকে আয় কমে গেলে স্বর্ণের আকর্ষণ স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। কারণ স্বর্ণ কোনো সুদ বা লভ্যাংশ প্রদান করে না, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি মূল্য সংরক্ষণের অন্যতম নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। তাই বন্ড বাজারে মুনাফা কমে গেলে বিনিয়োগকারীরা বিকল্প হিসেবে স্বর্ণে বিনিয়োগ বাড়ান।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আংশিক যুদ্ধবিরতির খবর থাকলেও স্থায়ী শান্তি না আসায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। এই অনিশ্চয়তা স্বর্ণের প্রতি চাহিদা আরও বৃদ্ধি করেছে।
নিচের সারণিতে মঙ্গলবারের স্বর্ণবাজারের প্রধান পরিবর্তন তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | পরিবর্তন |
|---|---|
| স্পট বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি | ১.১ শতাংশ বৃদ্ধি |
| প্রতি আউন্স স্বর্ণের নতুন মূল্য | ৪,৫৩২.৭৪ ডলার |
| ফিউচার বাজারে বৃদ্ধি | ১.৩ শতাংশ বৃদ্ধি |
| ফিউচার লেনদেনের মূল্য | ৪,৫৬২.৯০ ডলার |
| প্রধান প্রভাবক | বন্ডের আয় হ্রাস ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা |
বিশ্লেষকদের ধারণা, আসন্ন অর্থনৈতিক তথ্য, বিশেষ করে শ্রমবাজার সম্পর্কিত প্রতিবেদন, স্বর্ণবাজারে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভবিষ্যৎ সুদের হার নীতি বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তকে আরও প্রভাবিত করবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে স্বর্ণবাজার আপাতত শক্ত অবস্থানে রয়েছে। আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনৈতিক নীতির পরিবর্তন স্বর্ণের দামের গতিপথ নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে।
