কুয়াকাটা ভ্রমণে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল কিশোরের

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় বেড়াতে এসে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শরীয়তপুরের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন এবং তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সোমবার (১ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুয়াকাটার মেরিন ড্রাইভ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত কিশোরের নাম জিসান (১৭)। তিনি শরীয়তপুর জেলার পালং থানার কাশাভোগ (কাশাপুর) গ্রামের বাসিন্দা এবং আমির হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর থেকে কয়েকজন বন্ধু মোটরসাইকেলে করে কুয়াকাটা ভ্রমণে আসেন। তারা মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে লেম্বুরবনের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় এক নারী রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করলে মোটরসাইকেলটির চালক তাকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারীকে রক্ষা করতে গিয়ে চালক মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। পরে মোটরসাইকেলটি সড়কের পাশের একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা তিন আরোহীই গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে তুলাতলী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জিসানকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

কুয়াকাটার মেরিন ড্রাইভ সড়কটি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় একটি পথ। সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে যাতায়াতের জন্য পর্যটকরা নিয়মিত এই সড়ক ব্যবহার করে থাকেন। দুর্ঘটনার সময় মোটরসাইকেলটি লেম্বুরবনের দিকে যাচ্ছিল বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে মহিপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অনিমেষ হালদার জানান, দুর্ঘটনায় এক কিশোর নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়াও গ্রহণ করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য

বিষয়তথ্য
দুর্ঘটনার স্থানকুয়াকাটা মেরিন ড্রাইভ সড়ক, পটুয়াখালী
দুর্ঘটনার সময়সোমবার (১ জুন), সকাল সাড়ে ১০টা
নিহতজিসান (১৭)
বাড়িকাশাভোগ (কাশাপুর), পালং থানা, শরীয়তপুর
পিতার নামআমির হোসেন
আহত২ জন
গন্তব্যলেম্বুরবন
দুর্ঘটনার কারণনারীকে বাঁচাতে গিয়ে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারানো
আহতদের নেওয়া হয়তুলাতলী হাসপাতাল
তদন্তকারী সংস্থামহিপুর থানা

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।