নেত্রকোনা সদর উপজেলায় যাত্রীবাহী বাসের চাপায় মা ও দুই মেয়ের মৃত্যুর পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইজিবাইকের চালক রোহান মিয়াও শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। গত রবিবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪৫ বছর বয়সী এই চালকের মৃত্যু হয়। এর ফলে এই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে।
Table of Contents
দুর্ঘটনার স্থান, সময় ও ঘটনার বিবরণ
গত রবিবার বেলা ১১টার দিকে নেত্রকোনা সদর উপজেলার চল্লিশা এলাকার নেত্রকোনা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ইজিবাইকচালক রোহান মিয়া নেত্রকোনা সদর উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের বাসিন্দা আমিরুজ্জামানের ছেলে বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা যায়, ঘটনার সময় ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসা ‘মহুয়া পরিবহন’ নামক একটি যাত্রীবাহী বাস নেত্রকোনার দিকে যাচ্ছিল। ঠিক একই সময়ে নেত্রকোনা থেকে বিপরীত মুখী হয়ে শ্যামগঞ্জের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল একটি যাত্রীবাহী ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক। যানবাহন দুটি চল্লিশা এলাকার বাসপাই নামক স্থানে পৌঁছালে মহুয়া পরিবহনের বাসটি ইজিবাইকটিকে সজোরে চাপা দেয়। বাসের তীব্র আঘাতে ইজিবাইকটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং চালক রোহান মিয়াসহ ইজিবাইকে থাকা ও মহাসড়কের পাশে অবস্থানরত অন্তত আটজন ব্যক্তি গুরুতরভাবে আহত হন।
উদ্ধার তৎপরতা ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু
দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয় লোকজন ও পথচারীরা আহতদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন। তবে ঘটনাস্থলেই সদর উপজেলার আমলি কেশবপুর গ্রামের বাসিন্দা আইনুল হকের স্ত্রী নূরজাহান বেগম (৪৫) প্রাণ হারান।
পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকারীরা আইনুল হক, তাঁর দুই মেয়ে স্মৃতি আক্তার ও সুমাইয়া আক্তার ওরফে ইতি এবং রায়দুম ঝাউসি গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেনের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমানকে (২৫) আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নূরজাহান বেগমের দুই মেয়ে স্মৃতি ও সুমাইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, ইজিবাইকচালক রোহান মিয়াসহ গুরুতর আহত অপর তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের পর উন্নত ও নিবিড় চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যার দিকে ইজিবাইকচালক রোহান মিয়া মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
আইনি পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক বক্তব্য
নেত্রকোনা জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) হাফিজুল ইসলাম এই সড়ক দুর্ঘটনার সামগ্রিক তথ্য ও চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান যে, বাসচাপায় প্রথমে মা ও দুই মেয়ে নিহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইজিবাইকের চালক রোহান মিয়াও মারা গেছেন। বর্তমানে গুরুতর আহত আইনুল হক ও মোস্তাফিজুর রহমান নামের অন্য দুজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে নেত্রকোনা সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং দুর্ঘটনাকবলিত বাসের চালককে আটক করার জন্য পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান
নেত্রকোনার চল্লিশা এলাকায় ঘটে যাওয়া এই সড়ক দুর্ঘটনার মূল তথ্য ও হতাহতদের বিবরণ নিচে একটি সারণির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| দুর্ঘটনার বিবরণ ও খাত | সংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট তথ্য ও ফ্যাক্টস |
| দুর্ঘটনার স্থান | চল্লিশা বাসপাই এলাকা, নেত্রকোনা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক |
| দুর্ঘটনার সময় ও তারিখ | গত রবিবার, বেলা আনুমানিক ১১টা |
| জড়িত যানবাহনের বিবরণ | মহুয়া পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস এবং একটি ইজিবাইক |
| ঘটনাস্থলে নিহত | ১ জন (নূরজাহান বেগম, বয়স: ৪৫ বছর) |
| হাসপাতালে মৃত ঘোষণা | ২ জন (স্মৃতি আক্তার ও সুমাইয়া আক্তার ওরফে ইতি) |
| চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত | ১ জন (ইজিবাইকচালক রোহান মিয়া, বয়স: ৪৫ বছর) |
| সর্বমোট নিহতের সংখ্যা | ৪ জন (একই পরিবারের মা ও দুই মেয়ে এবং ইজিবাইকচালক) |
| গুরুতর আহত ও চিকিৎসাধীন | ২ জন (আইনুল হক এবং মোস্তাফিজুর রহমান) |
| চিকিৎসাকেন্দ্রের নাম | নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।
