আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতি হিসেবে নিজেদের শক্তি ও কৌশল ঝালিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। রিও ডি জেনেরিওর ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি ম্যাচে স্বাগতিকরা গোল উৎসবের মাধ্যমে পানামাকে ৬-২ ব্যবধানে পরাজিত করেছে। পুরো ম্যাচে আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে প্রতিপক্ষের জালে গুনে গুনে ৬টি গোল দিয়েছে তারা। বিপরীতে রক্ষণভাগের সামান্য অসতর্কতায় দুটি গোল হজম করতে হয়েছে ব্রাজিলকে, যার একটি ছিল দুর্ভাগ্যজনক আত্মঘাতী গোল।
প্রথমার্ধের আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণের চিত্র
ম্যাচের বাঁশি বাজার পর শুরু থেকেই চিরচেনা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ব্রাজিল। এর ফলে খেলার মাত্র দ্বিতীয় মিনিটেই ভিনিসিয়ুস জুনিয়র চমৎকার এক ফিল্ড গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। তবে এই গোলের পর খেলার ধারার বিপরীতে হঠাৎ একটি বড় ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। পানামার মাইকেল মুরিলোর নেওয়া একটি ফ্রি-কিক ব্রাজিলের মাথিউস কুনহার গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে নিজেদের জালে জড়ালে ম্যাচটিতে ১-১ গোলে সমতা ফেরে।
তবে এই আকস্মিক সমতায় ফেরার ধাক্কা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সামলে নেয় ব্রাজিল। দলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো দূরপাল্লার এক দুর্দান্ত শটে গোল করে দলকে আবারও লিড এনে দেন। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধের খেলা শেষ করে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিক দল।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের গোল উৎসব ও ম্যাচ জয়
মধ্যাহ্ন বিরতির পর মাঠের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায় এবং পানামার রক্ষণভাগকে রীতিমতো ধসিয়ে দেন ব্রাজিলের ফরোয়ার্ডরা। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের মারাত্নক ভুলের সুযোগ নিয়ে দলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করেন ব্রাজিলের তরুণ তুর্কি রায়ান। এরপর আক্রমণের ধার বাড়িয়ে লুকাস পাকেতা একটি জোড়ালো শট নেন, যা পানামার কর্দোবার গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ালে স্কোরলাইন ৪-১ হয়।
ম্যাচের শেষের দিকে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে ফাউল হলে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। পেনাল্টি থেকে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথার ফিনিশে ব্রাজিলের হয়ে পঞ্চম গোলটি করেন ইগর থিয়াগো। এরপর দলের হয়ে শেষ পেরেকটি ঠোকেন ডিফেন্ডার দানিলো। প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে চমৎকার এক টার্ন নিয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে তিনি দলের ষষ্ঠ গোলটি করেন। ম্যাচে পুরোপুরি কোণঠাসা হয়ে পড়লেও শেষ দিকে পানামার হার্ভে একটি চোখধাঁধানো দূরপাল্লার শটে ব্রাজিলের জাল কাঁপিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় গোলটি এনে দেন।
ম্যাচ পরিসংখ্যান ও ব্রাজিলের আসন্ন খেলার সূচি
পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের নিখুঁত পাসিং ও ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ের সামনে পানামা দল কোনো সুবিধাই করতে পারেনি। ম্যাচে ব্রাজিলের মোট শট ছিল ১৪টি এবং এক্সপেক্টেড গোলস বা সম্ভাব্য গোলের হার ছিল ২.২৬। নিচে ফাইনাল ম্যাচের দুই দলের গোল করার সংক্ষিপ্ত বিবরণী দেওয়া হলো:
| দলের নাম | মোট গোল | গোলদাতা ও গোলের বিবরণ |
| ব্রাজিল | ৬ | ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (২ মিনিট) ক্যাসেমিরো (প্রথমার্ধ) রায়ান (দ্বিতীয়ার্ধ) লুকাস পাকেতা (দ্বিতীয়ার্ধ) ইগর থিয়াগো (পেনাল্টি) দানিলো (শেষ গোল) |
| পানামা | ২ | মাথিউস কুনহা (আত্মঘাতী গোল) হার্ভে (দূরপাল্লার শট) |
আসন্ন বিশ্বকাপের আগে নিজেদের কৌশল পুরোপুরি যাচাই করে নিতে ব্রাজিল কোচ এই ট্যাকটিক্যাল লড়াইয়ে পুরো স্কোয়াডকেই দারুণভাবে ব্যবহার করেছেন। পানামার বিপক্ষে এই বড় জয়ের পর আগামী ৭১ জুন মিশরের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এরপরই শুরু হবে তাদের আসল বিশ্বকাপ মিশন। আগামী ১৪ জুন ‘সি’ গ্রুপে থাকা মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হবে। এরপর ২০ জুন দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতি এবং ২৫ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে সেলেসাওরা।
