চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকায় যাত্রীবাহী লেগুনা ও দূরপাল্লার বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ভেল্লাপাড়া ক্রসিংয়ের তালতল এলাকায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহন দুটি হলো ঈগল পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাস এবং স্থানীয় রুটে চলাচলকারী একটি যাত্রীবাহী লেগুনা। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কর্ণফুলীর মইজ্জারটেক এলাকা থেকে যাত্রী নিয়ে লেগুনাটি নির্ধারিত গন্তব্যের দিকে যাচ্ছিল। একই সময়ে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামমুখী ঈগল পরিবহনের বাসটি মহাসড়ক দিয়ে দ্রুতগতিতে আসছিল।
প্রাথমিক তথ্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বাসটি পথে একটি যানবাহনকে ওভারটেক করার চেষ্টা করে। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা লেগুনার সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলেই দুই যানবাহন দুমড়ে-মুচড়ে যায়। বিশেষ করে লেগুনাটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর ভেতরে থাকা যাত্রীরা গুরুতরভাবে আহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই মহাসড়ক এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে কর্ণফুলী থানা পুলিশ ও ভেল্লাপাড়া ক্রসিং পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহিনুর আলম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় থাকা কয়েকজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তা পরিতোষ জানান, প্রাথমিকভাবে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে অন্তত আটজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সংঘর্ষের সময় লেগুনার যাত্রীরাই সবচেয়ে বেশি আঘাত পেয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর ঈগল পরিবহনের বাসচালক গাড়ি রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তার পরিচয় শনাক্ত ও আটকের জন্য অভিযান শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময়ের জন্য চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার পর ধীরে ধীরে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে দুর্ঘটনার সময় মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
আহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। হাসপাতাল ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে তাদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। পাশাপাশি আহতদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ। প্রতিদিন এই রুটে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক এবং স্থানীয় যানবাহন চলাচল করে। অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং বেপরোয়া যান চলাচলের কারণে এই মহাসড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে এই মহাসড়কে একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার পর সড়ক নিরাপত্তা, চালকদের নিয়ন্ত্রণ এবং যানবাহনের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। কর্ণফুলীর এই দুর্ঘটনা সেই ধারাবাহিকতারই আরেকটি উদ্বেগজনক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ, আহতদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
