রোনালদো ছাড়াই সেরা পর্তুগাল দেখছেন টুয়েলম্যান

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে আলোচনা দিন দিন তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে আধুনিক ফুটবলের দুই তারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে কেন্দ্র করে সমর্থক ও বিশ্লেষকদের আগ্রহ বাড়ছে। অনেকের মতে, ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে এই দুই কিংবদন্তিকে দেখার এটিই হতে পারে শেষ সুযোগ। ফলে বিশ্বকাপে তাদের দল কতদূর এগোতে পারবে, তা নিয়েও চলছে ব্যাপক আলোচনা।

বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবারের টুর্নামেন্টে শিরোপাধারী দল হিসেবে অংশ নিচ্ছে। অন্যদিকে পর্তুগাল এখনও প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের অপেক্ষায় রয়েছে। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও নেশনস লিগ জয়ের স্বাদ পেলেও বিশ্বকাপ ট্রফি এখনো অধরা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্য। সেই কারণে এবারের বিশ্বকাপকে ঘিরে পর্তুগালের প্রতি বাড়তি নজর রয়েছে ফুটবলবিশ্বের।

বিশ্বকাপে কোন দল কতটা শক্তিশালী এবং কোন তারকা খেলোয়াড় সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারেন, তা নিয়ে সাবেক ফুটবলার ও বিশ্লেষকদের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই সাবেক যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক স্ট্রাইকার টেলর টুয়েলম্যান পর্তুগাল দল ও রোনালদোকে নিয়ে এক মন্তব্য করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।

মেজর লিগ সকারের সাবেক এই ফরোয়ার্ড মনে করেন, বর্তমান পর্তুগাল দল ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছে। তার মতে, আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় দলটি এখন বেশি ভারসাম্যপূর্ণ, পরিপূর্ণ এবং বিভিন্ন পজিশনে সমৃদ্ধ।

এক সাক্ষাৎকারে টুয়েলম্যান বলেন, “পর্তুগালের জন্য আমি একটি সাহসী মন্তব্য করতে চাই। বিশ্বকাপে রোনালদো কখনও এত ভালো দল পায়নি। এটাই তার পাওয়া সেরা দল।” একইসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আমার মনে হয়, সে যদি না খেলে, তবেই পর্তুগাল সবচেয়ে ভালো খেলে।”

তার এই মন্তব্য ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, দীর্ঘ সময় ধরে পর্তুগাল দলের আক্রমণভাগ, নেতৃত্ব এবং কৌশলগত পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বাধিক ম্যাচ খেলা ও সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও তার দখলে রয়েছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও তিনি অন্যতম সফল ফুটবলার হিসেবে বিবেচিত।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্তুগাল দলে একাধিক তরুণ ও প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসায় দলটির খেলার ধরনে পরিবর্তন এসেছে বলে বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন। মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগে ব্রুনো ফার্নান্দেজ, ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস, বের্নার্দো সিলভা, রাফায়েল লিয়াও এবং গনসালো রামোসের মতো ফুটবলাররা ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের ক্লাব ফুটবলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাচ্ছেন। ফলে দলটি এখন শুধুমাত্র একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীল নয় বলেও মত দিয়েছেন অনেক ফুটবল বিশ্লেষক।

বিশেষ করে দ্রুতগতির আক্রমণ, বল দখলে রাখা এবং উচ্চ প্রেসিং ফুটবলের ক্ষেত্রে বর্তমান পর্তুগাল দলকে আগের চেয়ে বেশি কার্যকর বলে মনে করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটেই টুয়েলম্যানের মন্তব্যকে অনেকে কৌশলগত বিশ্লেষণ হিসেবে দেখছেন।

রোনালদোর বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনা বেড়েছে। যদিও তিনি এখনও জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং বড় ম্যাচে তার অভিজ্ঞতাকে পর্তুগালের অন্যতম শক্তি হিসেবে দেখা হয়। তবুও দলগত ভারসাম্য ও আক্রমণের গতির প্রশ্নে বিভিন্ন বিশ্লেষণ সামনে আসছে।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনাকেও এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে তাদের আত্মবিশ্বাস এবং লিওনেল মেসির অভিজ্ঞতা দলটিকে বাড়তি শক্তি দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ফলে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে মেসি ও রোনালদোকে ঘিরে তুলনামূলক আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

বিশ্বকাপের আগে বিভিন্ন জাতীয় দল এখন প্রস্তুতি, স্কোয়াড নির্বাচন এবং খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। এর মধ্যেই টেলর টুয়েলম্যানের মন্তব্য পর্তুগাল দল, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ভূমিকা এবং দলগত কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।