বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল। দলের অন্যতম প্রধান তারকা নেইমার জুনিয়র পায়ের কাফ মাসলে গ্রেড-২ ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন জাতীয় দলের চিকিৎসক রদ্রিগো লাসমার। চিকিৎসকদের প্রাথমিক মূল্যায়নে জানা গেছে, এই ধরনের চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে সাধারণত দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় প্রয়োজন হয়। ফলে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তার অংশগ্রহণ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত ১৭ মে ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সান্তোসের হয়ে কোরিতিবার বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে গিয়ে চোট পান নেইমার। সাও পাওলোর নিও কুইমিকা অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচ চলাকালে তিনি শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করলে পরে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। ম্যাচ শেষে সান্তোস ক্লাবের পক্ষ থেকে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনকে জানানো হয়েছিল, চোটটি গুরুতর নয় এবং জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরুর আগেই তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন।
তবে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার পর তেরেসোপোলিসে বিস্তারিত মেডিকেল পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ভিন্ন চিত্র সামনে আসে। চিকিৎসা প্রতিবেদনে দেখা যায়, নেইমারের কাফ মাসলে গ্রেড-২ ইনজুরি রয়েছে, যা সাধারণ মাংসপেশির অস্বস্তির তুলনায় বেশি গুরুতর। এর ফলে ক্লাবের প্রাথমিক মূল্যায়ন এবং জাতীয় দলের মেডিকেল পর্যবেক্ষণের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা দেয়।
জাতীয় দলের চিকিৎসক রদ্রিগো লাসমার জানিয়েছেন, পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে পরিচালনা করা হবে এবং প্রতিদিন তার শারীরিক অবস্থার অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দ্রুত মাঠে ফেরানোর পরিবর্তে খেলোয়াড়ের পূর্ণ ফিটনেস নিশ্চিত করাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যাতে পরবর্তীতে একই ধরনের সমস্যা পুনরায় দেখা না দেয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ৩১ মে পানামার বিপক্ষে এবং ৬ জুন মিসরের বিপক্ষে নির্ধারিত প্রীতি ম্যাচ দুটিতে নেইমারকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল দল। এছাড়া ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও তার খেলা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। যদিও ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন এখনই তাকে চূড়ান্ত দল থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
সিবিএফ জানিয়েছে, চিকিৎসকদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হবে এবং প্রয়োজন হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সংস্থাটি এখনো আশাবাদী যে, পুনর্বাসন ইতিবাচক হলে বিশ্বকাপের প্রাথমিক পর্যায়েই নেইমার মাঠে ফিরতে পারেন।
ফিফার বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দল তাদের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ শুরুর ২৪ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত ইনজুরির কারণে স্কোয়াডে পরিবর্তন আনতে পারে। তবে বিকল্প হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া খেলোয়াড়কে অবশ্যই আগেই জমা দেওয়া ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক তালিকায় থাকতে হবে। এই সুযোগ থাকায় ব্রাজিল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিকল্প খেলোয়াড় ঘোষণার পথে হাঁটছে না।
বিশ্বকাপের আগে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের ইনজুরিতে পড়ার অভিজ্ঞতা ব্রাজিলের জন্য নতুন নয়। সর্বশেষ ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে মিডফিল্ডার এদমিলসন চোটের কারণে মূল দল থেকে বাদ পড়েছিলেন। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় কোচিং স্টাফ ও মেডিকেল বিভাগ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
নেইমার দীর্ঘদিন ধরে ব্রাজিল দলের আক্রমণভাগের কেন্দ্রীয় ভূমিকায় রয়েছেন। গোল করা, আক্রমণ তৈরি, সেটপিস পরিচালনা এবং বড় ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে তার অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। ফলে বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের ঠিক আগে তার ইনজুরি ব্রাজিল দলের কৌশলগত পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বিভিন্ন দল ইতোমধ্যে চূড়ান্ত প্রস্তুতি, স্কোয়াড নির্বাচন এবং খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। এর মধ্যেই নেইমারের চোট ব্রাজিল শিবিরে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তার পুনর্বাসন অগ্রগতি এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণের দিকেই নজর রাখছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন।
