পল্লবীতে শিশু হত্যা মামলার বিচার শুরু ১ জুন

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, রাজধানীর পল্লবীতে সংঘটিত শিশু হত্যা মামলার বিচারকাজ আগামী ১ জুন থেকে শুরু হবে। বুধবার বিকেল ৫টার দিকে ঝিনাইদহের শৈলকুপা সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে মেধা ও মনন মঞ্চ আয়োজিত ‘মেধা ও মনন উৎসব’-এর সমাপনী ও কৃতী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, আলোচিত এই ঘটনার পর শিশুটির বাবা একসময় বলেছিলেন তিনি আর বিচার চান না। এ প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তিনি তখন শিশুটির বাবাকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন যে, এই হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমেই প্রকৃত অর্থে হতাশার অবসান ঘটবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাষ্ট্র ও সরকার এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং সেই লক্ষ্যেই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি জানান, মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং সেই নির্দেশনার ভিত্তিতে এক সপ্তাহের মধ্যেই চার্জশিট দাখিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশনা কার্যকর করা হয়। তিনি দাবি করেন, পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করা সম্ভব হয়েছে, যা মামলাটির অগ্রগতিকে দ্রুততর করেছে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ১ জুন আদালত খোলার প্রথম কার্যদিবস থেকেই পল্লবীতে শিশু হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু করা হবে। বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার এই সময়সূচি নির্ধারণের মাধ্যমে মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তির দিকে অগ্রসর হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি সবাইকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান এবং বলেন, এ ধরনের গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সমাজে সংঘটিত এ ধরনের অপরাধমূলক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা সরকারের একটি অগ্রাধিকারমূলক অবস্থান। তাঁর মতে, বিচার প্রক্রিয়া যত দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হবে, ততই আইনের শাসনের প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।

এ সময় তিনি মাগুরার আছিয়া সংক্রান্ত আলোচিত মামলাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ হত্যা মামলার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এসব মামলার আসামিরা বর্তমানে কারাগারের নির্জন সেলে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর বিচার কার্যক্রমও দ্রুত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য কাজ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় আইনমন্ত্রী তাঁর পূর্ববর্তী দায়িত্বকালীন অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি কয়েকটি স্পর্শকাতর হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি বিশেষভাবে মেজর সিনহা হত্যা মামলা এবং আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ওই সময় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব মামলার বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল এবং প্রক্রিয়াটি হাইকোর্ট পর্যায় পর্যন্ত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান এবং আলোচিত মামলাগুলোর ক্ষেত্রেও বিচারিক অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আপিল বিভাগও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার মাধ্যমে অপরাধের বিরুদ্ধে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারি মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে।

অনুষ্ঠানটি শৈলকুপা সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বিচার কার্যক্রম শুরুর ঘোষণাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।