২০২৬ বিশ্বকাপ: শিরোপার তিন দাবিদার জানালেন স্পেন কোচ

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের দামামা বাজতে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই আসরকে সামনে রেখে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো তাদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দেশ তাদের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। এই প্রেক্ষাপটে স্পেনের জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে আসন্ন বিশ্বকাপে শিরোপার দাবিদার এবং দলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তার সুচিন্তিত মতামত প্রকাশ করেছেন।

শিরোপার লড়াইয়ে তিন প্রধান শক্তি

সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে লুইস দে লা ফুয়েন্তে ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে আলোচনা করেন। তার মতে, এবারের আসরে প্রধানত তিনটি দেশ শিরোপার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। তিনি মনে করেন, বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের শক্তি ও সামঞ্জস্যের বিচারে স্পেন নিজেই অন্যতম ফেবারিট। তবে একই সঙ্গে তিনি ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্সকে সমমানের শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

তার বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো হলো:

  • স্পেন: দীর্ঘ সময় পর আবারও বিশ্বসেরার মুকুট জয়ের সামর্থ্য রাখে লা রোহারা।

  • ইংল্যান্ড: গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতা ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের উপস্থিতির কারণে তারা অন্যতম প্রধান শক্তি।

  • ফ্রন্স: শক্তিশালী আক্রমণভাগ এবং বড় টুর্নামেন্টে খেলার অভিজ্ঞতায় তারা যেকোনো দলের জন্য ভীতি জাগানিয়া।

কোচের সতর্কবার্তা ও দলের সংহতি

শিরোপার অন্যতম দাবিদার হওয়া সত্ত্বেও দে লা ফুয়েন্তে অতি-আত্মবিশ্বাসে ভোগার পরিবর্তে সতর্ক থাকার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, যদিও আমরা ফেবারিটদের মধ্যে আছি। আমাদের মাটিতে পা রেখেই এগোতে হবে।”

স্পেন দলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে কোচ অত্যন্ত ইতিবাচক। অতীতে স্প্যানিশ ফুটবল দলে রিয়াল মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনার মতো ক্লাবভিত্তিক বিভাজনের কথা শোনা গেলেও, বর্তমান দলে এর কোনো অস্তিত্ব নেই বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। তার মতে, জাতীয় দলে এখন সবাই সমান এবং সবাই ব্যক্তিগত ক্লাব পরিচয় ভুলে শুধুমাত্র দেশের গৌরবের জন্য লড়াই করছে।

খেলোয়াড় ও স্কোয়াড আপডেট

স্পেন এই সপ্তাহেই তাদের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করতে যাচ্ছে। দল ঘোষণার আগেই নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, বর্তমান বিশ্বের অন্যতম আলোচিত তরুণ প্রতিভা লামিনে ইয়ামাল দলে থাকছেন। তবে নিষেধাজ্ঞাজনিত বা অন্য কোনো কারণে কেপ ভার্দের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে তাকে পাওয়া যাবে না। এছাড়া দীর্ঘ ইনজুরি কাটিয়ে দারুণভাবে ফর্মে ফেরা গাভির স্কোয়াডে থাকা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

নিচে স্পেনের সম্ভাব্য শক্তির উৎস ও গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হলো:

খেলোয়াড়ের নামবর্তমান ক্লাবঅবস্থানমন্তব্য
লামিনে ইয়ামালবার্সেলোনাফরোয়ার্ডপ্রথম ম্যাচে অনুপস্থিত থাকবেন
গাভিবার্সেলোনামিডফিল্ডারদলে অন্তর্ভুক্তি প্রায় নিশ্চিত
রদ্রিম্যানচেস্টার সিটিমিডফিল্ডারদলের অন্যতম প্রধান ভরসা
আলভারো মোরাতাএসি মিলানফরোয়ার্ডদলের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও প্রত্যাশা

২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছিল স্পেন। এরপরের তিনটি বিশ্বকাপে স্পেনের পারফরম্যান্স আশানুরূপ ছিল না। তবে দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন জাতীয় দল পুনরায় তাদের হারানো ছন্দ ফিরে পেয়েছে। তরুণ ও অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত এই দলটি ২০২৬ সালের উত্তর আমেরিকায় (যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা) আয়োজিত বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মতো ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে।

কোচের মতে, আধুনিক ফুটবলে কোনো দলকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। তবে স্পেনের বর্তমান যে দলগত সংহতি এবং মানসিক অবস্থা, তা তাদের বড় অর্জনের পথেই চালিত করছে। ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণার পর স্পেনের রণকৌশল আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।