আগামী সেপ্টেম্বরে জাপানের নাগোয়াতে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে ইতিহাস গড়ার স্বপ্নে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ নারী হকি দল। পুরুষ দল ইতোমধ্যেই বাছাইপর্ব পেরিয়ে মূল আসরে জায়গা নিশ্চিত করলেও এবার প্রথমবারের মতো সিনিয়র নারী দলও এই মহাদেশীয় ক্রীড়া আসরের বাছাইপর্বে লড়াইয়ে নামতে যাচ্ছে, যা দেশের নারী হকির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশে হকির ইতিহাস দীর্ঘ হলেও নারী হকির সিনিয়র পর্যায়ের আন্তর্জাতিক যাত্রা এখনো একেবারেই নতুন। এতদিন এই দলটি মূলত বয়সভিত্তিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল। বিশেষ করে অনূর্ধ্ব-১৮ পর্যায়ে সাফল্যের পর এবারই প্রথম একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় নারী দল আন্তর্জাতিক বাছাইপর্বে অংশ নিচ্ছে, যা নারী হকির অগ্রযাত্রায় নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
আগামী ২৩ থেকে ২৯ এপ্রিল ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান গেমস নারী হকি বাছাই টুর্নামেন্ট। এই প্রতিযোগিতায় এশিয়ার মোট আটটি দেশ অংশ নেবে। বাংলাদেশ দল পড়েছে ‘এ’ গ্রুপে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে চাইনিজ তাইপে, উজবেকিস্তান এবং হংকং—যা গ্রুপটিকে তুলনামূলকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে।
টুর্নামেন্ট কাঠামো অনুযায়ী দুই গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সেমিফাইনালে উঠবে। এরপর সেমিফাইনালিস্ট চারটি দলই সরাসরি এশিয়ান গেমসে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। ফলে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছানোই মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
টুর্নামেন্ট কাঠামো ও বাংলাদেশের অবস্থান
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অংশগ্রহণকারী দেশ | ৮টি |
| গ্রুপ সংখ্যা | ২টি |
| বাংলাদেশের গ্রুপ | গ্রুপ ‘এ’ |
| প্রতিপক্ষ | চাইনিজ তাইপে, উজবেকিস্তান, হংকং |
| সেমিফাইনালে উঠবে | প্রতি গ্রুপের শীর্ষ ২ দল |
| এশিয়ান গেমসে যাবে | সেমিফাইনালিস্ট ৪ দল |
বাংলাদেশ নারী হকি দলের প্রধান কোচ জাহিদ হোসেন রাজু জানিয়েছেন, লক্ষ্য অর্জন কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। তার মতে, গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী দল চাইনিজ তাইপে হলেও উজবেকিস্তান ও হংকংয়ের বিপক্ষে ইতিবাচক ফলাফল আনতে পারলে সেমিফাইনালে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। তিনি মনে করেন, খেলোয়াড়রা পরিকল্পনা অনুযায়ী মাঠে নিজেদের মেলে ধরতে পারলে এটি দেশের নারী হকির জন্য ঐতিহাসিক অর্জন হবে।
দলের শক্তির অন্যতম ভরসা হলো বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)। এখানকার বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়, যারা অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়ান কাপে ব্রোঞ্জ পদক জয়ী দলে ছিলেন, এবার জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। বয়সভিত্তিক আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা তাদের মানসিক ও কৌশলগত দিক থেকে এগিয়ে রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
জাতীয় দলের প্রস্তুতি ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই চলছে। নিয়মিত অনুশীলনের পাশাপাশি কৌশলগত পরিকল্পনা, দলীয় সমন্বয় এবং শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সীমিত সময়ের প্রস্তুতি সত্ত্বেও কোচিং স্টাফরা আশা করছেন, খেলোয়াড়দের পূর্ব অভিজ্ঞতা দলকে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সহায়তা করবে।
নারী হকির এই অংশগ্রহণকে কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন যাত্রার সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে এশিয়ান গেমসে জায়গা করে নিতে পারলে তা হবে শুধু সাফল্য নয়, বরং দেশের নারী ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি শক্তিশালী অনুপ্রেরণা।
সব মিলিয়ে, জাকার্তায় আসন্ন বাছাইপর্বে বাংলাদেশ নারী হকি দলের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ থাকলেও সম্ভাবনার দরজাও খোলা রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা, আত্মবিশ্বাস এবং মাঠের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে—বাংলাদেশ কি পারবে প্রথমবারের মতো নারী হকিতে এশিয়ান গেমসের মূল মঞ্চে জায়গা করে নিতে।
