হংকংয়ের তাই পো এলাকার আকাশ বুধবার দুপুর থেকে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। ওয়াং ফুক কোর্ট নামের বিশাল আবাসিক কমপ্লেক্সে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর মুহূর্তেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ৩৬ জন নিহত এবং ২৭৯ জন নিখোঁজ—দুটো সংখ্যাই শহরবাসীকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। বহু মানুষ দগ্ধ, আর কতজন ভবনের ভেতর আটকা রয়েছেন তা পরিষ্কার নয়।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা রাতভর চেষ্টা করেও ভবনের উপরের তলাগুলোতে পৌঁছাতে পারেননি। তীব্র উত্তাপ, ভেঙে পড়া দেয়াল এবং দম বন্ধ করা ধোঁয়া উদ্ধারকাজকে অসম্ভবের দিকে ঠেলে দেয়। রাত গভীর হলেও আগুন জ্বলতেই থাকে—এ যেন আধুনিক শহরের হৃদয়ে এক বিভীষিকা।
ওয়াং ফুক কোর্টে প্রায় দুই হাজার অ্যাপার্টমেন্টে চার হাজারের বেশি মানুষ থাকেন। এত বড় কমপ্লেক্সে, ভবনের ভেতর ঠিক কতজন আটকা পড়েছিলেন, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। হতাহতদের মধ্যে কয়েকজন ফায়ার ফাইটারও রয়েছেন—যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকেই প্রমাণ করে।
মানুষের আর্তনাদে আশপাশ ভারী হয়ে ওঠে। ৭১ বছর বয়সী ওং দিশেহারা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন—তিনি জানতেন, তাঁর স্ত্রী ভবনের ভেতরে আটকা পড়েছেন। আরেক বাসিন্দা হ্যারি চেউং বলেন, “আর ফিরতে পারব কি না জানি না… আজ রাতটা কোথায় কাটাব?”—তার কণ্ঠে ছিল আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা এবং গভীর অসহায়ত্ব।
আগুনের কারণে দুইটি প্রধান মহাসড়কের একটি বন্ধ করে দেওয়া হয়, ফলে শহরে যানজট ও পরিবহণ বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার ছয়টি স্কুল বন্ধ রাখার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং জরুরি নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছেন—আগুন নিয়ন্ত্রণ ও মানবজীবন রক্ষাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
হংকংয়ের স্মৃতিতে এমন বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড নতুন নয়। ১৯৯৬ সালে কোউলুনে আগুনে ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। দুই দশকের বেশি সময় পর শহর আবারও একই আতঙ্কে দিশেহারা—এবারও এক শোকাবহ বহুতল ট্র্যাজেডির মুখে।
