খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই জুলাই ২০২৬, ৮:৫৩ পিএম

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় গভীর রাতে নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় শাহজালাল (৫৫) নামে এক কৃষককে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মর্মান্তিক এ হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ। পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে নিহতের পরিবারের অভিযোগ থাকলেও পুলিশ বলছে, ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কঞ্চিপাড়া (মাঝিপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাহজালাল ওই গ্রামের মৃত নিয়ামত উল্লাহর ছেলে। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি বাঁশের তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি পরিশ্রমী ও শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন শাহজালাল। তার স্ত্রী গোলেদা বেগম মূল ঘরে অবস্থান করলেও শাহজালাল টিনশেড বারান্দার একটি পৃথক কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন। রাত প্রায় ২টার দিকে গোঙানির শব্দ শুনে স্ত্রী ছুটে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাত ছিল। পাশেই পড়ে ছিল রক্তমাখা একটি ছুরি, যা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
গোলেদা বেগমের চিৎকার শুনে স্বজন ও প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে খবর পেয়ে ফুলছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং আলামত সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের ছেলে পাঞ্জু মিয়া অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই তার জ্যাঠাতো ভাই গোলাম হোসেন এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তার দাবি, গোলাম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নিজের স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চালাতেন এবং শাহজালাল সেই নির্যাতনের প্রতিবাদ করতেন। প্রায় পাঁচ মাস আগে এক সংঘর্ষের পর নির্যাতিত নারীকে নিরাপত্তার জন্য বাবার বাড়িতে পাঠানো হলে গোলাম হোসেন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। সেই বিরোধ থেকেই পরিকল্পিতভাবে তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের ধারণা।
ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হোদা জানান, ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে সন্দেহ করা একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ঘরের বারান্দার কক্ষের পাটাতনের নিচের অংশ খুলে দুর্বৃত্ত ভেতরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত অবস্থায় শাহজালালের ওপর হামলা চালায়। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ বা দায়ী ব্যক্তির বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
ওসি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। পরিবারের অভিযোগও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে। প্রমাণ ও তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
ঘটনার পর এলাকায় শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য