তিন দিনে ধর্ষণ অভিযুক্ত চারজন গণপিটুনির শিকার

দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তিন দিনের ব্যবধানে চারজন ব্যক্তি গণপিটুনির শিকার হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ ও পটুয়াখালীতে সাম্প্রতিক দুই ঘটনায় দুজনকে পিটুনি দেয় স্থানীয় জনতা। এর আগে চট্টগ্রামেও একই ধরনের দুই ঘটনায় আরও দুজন গণপিটুনির শিকার হন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। শুক্রবার বিকেলে ফতুল্লা উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়নের চর বয়ারগাদি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান। অভিযুক্তরা হলেন ওই এলাকার হিরো ও সোহেল।

ঘটনার পর মধ্যরাতে এলাকাবাসী হিরোকে আটক করে গণপিটুনি দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় হিরোকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। একই ঘটনায় অপর অভিযুক্ত সোহেলকে পুলিশ আটক করে। ভুক্তভোগী শিশুর মা ওই রাতেই ফতুল্লা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে শিশুটি বাড়ির আশপাশে খেলছিল। পরে তাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুব আলম জানান, গণপিটুনিতে আহত একজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং অপরজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এদিকে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বেল্লাল হোসেন (২৮) নামের এক ব্যক্তিকে গণপিটুনির পর পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার লতাচাপলী ইউনিয়নের দিয়ার আমখোলাপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ছিলেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, বেল্লাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মক্তবে পড়তে আসা শিশুদের ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর অভিভাবক ও এলাকাবাসী তাকে নজরদারিতে রাখেন। পরে গতকাল সকালে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয় এবং উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামীম হাওলাদার জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক শিশুর বাবা থানায় মামলা করেছেন। পরে আসামিকে কলাপাড়া আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া এলাকায় এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে পিটুনি দিয়ে আটক করে স্থানীয়রা। ওই ঘটনায় পুলিশ উদ্ধার অভিযানে গেলে জনতা পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয় বলে জানা যায়।

একই সময়ে চট্টগ্রামের খুলশী থানার আমবাগান এলাকায় দুই বোনকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মক্তবের এক শিক্ষককে গণপিটুনি দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। স্থানীয়রা তাকে আটক করে মারধর করে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।