খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই জুলাই ২০২৬, ৮:৫৬ পিএম

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে একটি পারিবারিক সালিশি বৈঠকের জেরে নিজের আপন দাদাকে গুলি করার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গ্রেফতার হওয়া যুবকের নাম মো. আশিক (২৩)। এ সময় তার কাছ থেকে ঘটনার দিন ব্যবহৃত একটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী বৃদ্ধ নজরুল ইসলাম (৭০) সম্পর্কে অভিযুক্ত আশিকের আপন দাদা (বাবার চাচা)।
আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে র্যাব-১১ এর নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক মিঠুন কুমার কুণ্ডু গণমাধ্যমকে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
র্যাব জানায়, ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন আশিক। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১ এর একটি চৌকস দল সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে নিয়ে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের রশিদপুর গ্রামে অভিযান চালানো হয়। সেখানকার হামিদ উল্যা পাটওয়ারী বাড়ির একটি গোপন স্থান থেকে গুলিবর্ষণের ঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার আশিক ওই বাড়িরই ইসমাইল হোসেন ফারুকের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আশিকের বাবা ইসমাইল হোসেন ফারুকের সঙ্গে তার মা আয়েশা বেগমের পারিবারিক কলহ ও বিরোধ চলে আসছিল। এই পারিবারিক সংকট নিরসনের লক্ষ্যে গত ৩ জুলাই সন্ধ্যায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ওই বৈঠকে ফারুকের আপন চাচা এবং পরিবারের প্রবীণ সদস্য নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের একপর্যায়ে আয়েশা বেগমের সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে উপস্থিত সদস্যদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এতে আয়েশা বেগম চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে মুঠোফোনের মাধ্যমে ঢাকায় অবস্থানরত তার ছেলে আশিককে বিষয়টি জানান। মায়ের কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ শুনে আশিক রাতেই ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে ফিরে আসেন।
পরদিন ৪ জুলাই বিকেলে পূর্বের ঘটনার সূত্র ধরে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে আশিক তার কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে বৃদ্ধ নজরুল ইসলামকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। গুলিটি সরাসরি বৃদ্ধের বাঁ হাতের কব্জির ওপর বিদ্ধ হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
রক্তাক্ত এই ঘটনার পরপরই আশিক এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। এই ঘটনায় গত ৬ জুলাই ভুক্তভোগী বৃদ্ধ নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় নাতি আশিককে প্রধান আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই পুলিশ ও র্যাব আসামিকে গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু করে।
র্যাব-১১ এর নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক মিঠুন কুমার কুণ্ডু জানান, অপরাধ সংঘটিত করার পর আসামি ঢাকায় পালিয়ে গিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান নিশ্চিত করে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গ্রেফতার আসামিকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর লক্ষ্যে চন্দ্রগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এলাকায় এ ধরনের সহিংসতা ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার রোধে র্যাবের কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
মন্তব্য