খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই জুলাই ২০২৬, ৮:৩২ পিএম

সিলেট থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ে রওনা হয়েছিলেন চালক জামাল উদ্দিন। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারান তিনি। মৃত্যুর আগে গুরুতর আহত অবস্থাতেই ট্রাক থামাতে নিষেধ করে সহকারীকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ মেনে ট্রাক চালিয়ে চালকের মরদেহসহ চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে পৌঁছান হেলপার। পরে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলে ট্রাক থেকে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাপাহাড় এলাকায় ফারদিন মডেল পাম্পের সামনে পার্কিং করা একটি ট্রাক থেকে ৫৬ বছর বয়সী চালক জামাল উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ।
নিহত জামাল উদ্দিন ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার উত্তর চর আইচা এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত মুনাফ বেপারীর ছেলে।
চালকের সহকারী বেলাল হোসেন জানান, সোমবার গভীর রাতে তারা সিলেটের শেরপুর থেকে পণ্যবোঝাই ট্রাক নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। রাতের এক পর্যায়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উজানিসার ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে সরু সড়কের কারণে ট্রাকের গতি কমে যায়। সেই সুযোগে চার থেকে পাঁচজন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত ট্রাকে হামলা চালায়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রথমে ট্রাকের সামনের কাচ ভেঙে ফেলে। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে চালক জামাল উদ্দিনকে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। হামলার পর দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুরুতর জখম অবস্থায়ও জামাল উদ্দিন নিজের ক্ষতস্থান কাপড় দিয়ে বেঁধে সহকারীকে ট্রাক চালিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে বলেন। তিনি কোনো অবস্থাতেই মাঝপথে থামতে নিষেধ করেন এবং নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর নির্দেশ দেন।
বেলাল হোসেন জানান, আতঙ্কিত অবস্থায় তিনি ট্রাক চালিয়ে ফেনী পর্যন্ত পৌঁছান। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পথেই চালক জামাল উদ্দিন মারা যান। পরে তিনি বিষয়টি অন্য ট্রাকচালকদের জানান এবং তাদের পরামর্শে ট্রাকটি মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জের ফারদিন মডেল পাম্প এলাকায় নিয়ে আসেন। সেখান থেকে স্থানীয় থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ট্রাক থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে মরদেহের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হামলার ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার একটি এলাকায় সংঘটিত হওয়ায় সেই জেলার সংশ্লিষ্ট থানা মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম পরিচালনা করবে। জোরারগঞ্জ থানা প্রয়োজনীয় সমন্বয় করছে, যাতে ঘটনার তদন্তে কোনো ধরনের জটিলতা না হয়।
ঘটনাটি দীর্ঘপথে পণ্য পরিবহনকারী চালকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় মহাসড়কের নির্জন অংশে চলাচলকারী ভারী যানবাহনের চালক ও সহকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আবারও জোরালো হয়ে উঠেছে।
মন্তব্য