খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ই মে ২০২৬, ৪:২৬ পিএম

বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ কুরাসাও আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তাদের চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) ঘোষিত এই দলে রয়েছে একাধিক পরিচিত ও অভিজ্ঞ ফুটবলার, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুই ভাই লিয়েন্দ্রো বাকুনা ও জুনিও বাকুনা। দুই ভাইয়ের একই সঙ্গে জাতীয় দলে থাকা বিষয়টি দল ঘোষণার পর বিশেষভাবে আলোচনায় আসে।
মাত্র দুই লাখেরও কম জনসংখ্যার এই ক্যারিবীয় দেশটি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে, যা দেশটির ফুটবল ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দলের নেতৃত্বে থাকবেন লিয়েন্দ্রো বাকুনা, যিনি ইংল্যান্ডের অ্যাস্টন ভিলা ক্লাবের সাবেক মিডফিল্ডার হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে তিনি তুরস্কের দ্বিতীয় স্তরের ক্লাব ইগদির এফসিতে খেলছেন।
তার ছোট ভাই জুনিও বাকুনা, বয়স ২৮ বছর, বর্তমানে নেদারল্যান্ডসের ভলেনডাম ক্লাবে খেলছেন। দুই ভাইয়ের পাশাপাশি জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পাওয়া কুরাসাওয়ের স্কোয়াডকে আরও অভিজ্ঞ ও ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলেছে।
দলে আরও রয়েছেন তাহিথ চং, যিনি একসময় ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ক্লাবের যুব একাডেমির খেলোয়াড় ছিলেন। তিনি নেদারল্যান্ডসের বয়সভিত্তিক দলে প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং গত আগস্টে কুরাসাওয়ের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি ইংল্যান্ডের শেফিল্ড ইউনাইটেড ক্লাবে খেলছেন।
কুরাসাও ‘ই’ গ্রুপে রয়েছে এবং তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হবে ১৪ জুন, শক্তিশালী জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। একই গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ ইকুয়েডর ও আইভরি কোস্ট, যা দলটির জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং গ্রুপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নিচে কুরাসাওয়ের ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াড দেওয়া হলো—
Table of Contents
টাইরিক বোডাক, ট্রেভর ডুরনবুশ, এলয় রুম
রিশেডলি বাজোয়ের, জশুয়া ব্রেনেট, রোশন ভ্যান ইজমা, শেরেল ফ্লোরানুস, ডেভেরন ফনভিল, জুরিয়েন গারি, আরমান্ডো ওবিস্পো, শুরান্ডি সাম্বো
জুনিও বাকুনা, লিয়েন্দ্রো বাকুনা, লিভানো কোমেনেনসিয়া, কেভিন ফেলিডা, আরজানি মার্থা, টাইরেস নোসলিন, গডফ্রেড রোমেরাথু
জেরেমি আন্তোনিসে, তাহিথ চং, কেঞ্জি গোরি, সন্টজে হ্যানসেন, জার্ভেন কাস্তানির, ব্র্যান্ডলি কুয়াস, ইয়ুর্গেন লোকাডিয়া, জের্ল মার্গারিটা
কুরাসাওয়ের এই দলটি বিভিন্ন ইউরোপীয় লিগে খেলা ফুটবলারদের নিয়ে গঠিত, যাদের বড় একটি অংশ নেদারল্যান্ডস ফুটবল ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বা সেখানকার বয়সভিত্তিক পর্যায়ে খেলেছেন। দলটির শক্তি মূলত অভিজ্ঞ মিডফিল্ড ও বহুমুখী আক্রমণভাগকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
বিশ্বকাপে প্রথম অংশগ্রহণ হওয়ায় কুরাসাওয়ের এই যাত্রা ফুটবল বিশ্বে নতুন নজর কাড়ছে, বিশেষ করে ছোট জনসংখ্যার একটি দেশের এমন পর্যায়ে পৌঁছানো ফুটবল ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্তব্য