দীর্ঘ আট বছরের আইনি জটিলতা ও মানসিক চাপের পর অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা। স্পেনের সর্বোচ্চ আদালত তাঁকে কর ফাঁকির অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণভাবে অব্যাহতি দিয়েছে। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, পূর্বে তাঁর কাছ থেকে যে অর্থ আদায় করা হয়েছিল, তা সুদসহ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিতে হবে।
আদালতের রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, শাকিরার বিরুদ্ধে আনা কর ফাঁকির অভিযোগ প্রমাণের জন্য স্পেনের কর কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট ও নির্ভরযোগ্য তথ্য উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে ২০১১ সালের করবর্ষে তাঁর বসবাসকাল নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেটি নির্ধারণে আদালত গ্রহণযোগ্য প্রমাণ খুঁজে পায়নি।
কর কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, ওই বছরে শাকিরা স্পেনে অন্তত একশ তিরাশি দিন অবস্থান করেছিলেন, যা কর নিবাসী হিসেবে বিবেচিত হওয়ার ন্যূনতম সময়সীমা পূরণ করে। তবে আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে ভিন্ন চিত্র। রায়ে বলা হয়, তিনি ওই বছরে স্পেনে ছিলেন একশ তেষট্টি দিন, যা নির্ধারিত সীমার তুলনায় বিশ দিন কম। এই পার্থক্যই মামলার মূল ভিত্তি ভেঙে দেয় এবং অভিযোগকে আইনি ভিত্তিহীন হিসেবে চিহ্নিত করে।
এই মামলায় অর্থনৈতিক দিক থেকেও বড় অঙ্ক জড়িত ছিল। শাকিরার কাছ থেকে পূর্বে আদায় করা অর্থের মধ্যে ছিল প্রায় চব্বিশ মিলিয়ন ইউরো আয়কর এবং পঁচিশ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা। মোট মিলিয়ে প্রায় ঊনপঞ্চাশ মিলিয়ন ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক সাতশ পঁয়ষট্টি কোটি টাকার সমান। আদালত এখন এই পুরো অর্থ সুদসহ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
মামলার আর্থিক কাঠামো সহজভাবে নিচের মতো তুলে ধরা যায়—
| বিষয় | পরিমাণ (ইউরো) | আনুমানিক বাংলাদেশি টাকা |
|---|---|---|
| আয়কর | চব্বিশ মিলিয়ন | প্রায় তিনশ চৌত্রিশ কোটি টাকা |
| জরিমানা | পঁচিশ মিলিয়ন | প্রায় তিনশ আটচল্লিশ কোটি টাকা |
| মোট ফেরতযোগ্য অর্থ | ঊনপঞ্চাশ মিলিয়ন | প্রায় সাতশ পঁয়ষট্টি কোটি টাকা |
আদালতের এই রায়ের পর শাকিরা এক বিবৃতিতে জানান, গত আট বছর তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি ছিল। এই সময়ের মধ্যে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক স্বাস্থ্য এবং পারিবারিক পরিবেশ গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল যা তাঁর সুনাম ও পেশাগত জীবনকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
তিনি আরও বলেন, তিনি সবসময়ই কর আইন মেনে চলেছেন এবং কখনোই কর ফাঁকির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তাঁর মতে, পুরো ঘটনাটি ভুল ব্যাখ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে দীর্ঘ সময় ধরে চলা একটি আইনি চাপের সৃষ্টি করেছিল।
এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটেছে এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কর সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে প্রমাণের গুরুত্ব নিয়ে নতুন আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আদালতের এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অনুরূপ মামলাগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
