প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি-এর নারায়ণগঞ্জ শাখায় ঋণপত্র বা লেটার অব ক্রেডিট লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ একটি আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেছে। গত রবিবার প্রদত্ত একটি বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে এবং জানায় যে, এই অভিযোগগুলোকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অনুযায়ী, গণমাধ্যমে উথাপিত অভিযোগসমূহ মূলত ২০১৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যবর্তী সময়ে সংঘটিত লেনদেনের সাথে সম্পর্কিত। উক্ত সময়কালে ব্যাংকের পূর্ববর্তী চেয়ারম্যান এবং পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্বে ছিলেন। প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি বর্তমানে এই বিষয়ে একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং বিস্তারিত তদন্ত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী ও তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বিক ও পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা বজায় রাখছে।
ব্যাংকের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, অতীতের যেকোনো সম্ভাব্য অনিয়ম বর্তমানে গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং এটি কোনোভাবেই ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পর্ষদ কিংবা বর্তমান পরিচালন নীতির বহিঃপ্রকাশ নয়। ব্যাংকটি তাদের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ কাঠামো পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি জোরদার করেছে এবং আন্তর্জাতিক নিয়মাবলি ও মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করে যাবতীয় ঋণপত্র সংক্রান্ত বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
উক্ত ঘটনার পরিপেক্ষিতে ব্যাংকের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের অবস্থান ও গৃহীত পদক্ষেপের সারসংক্ষেপ নিচে উপস্থাপন করা হলো:
| শীর্ষ কর্মকর্তার নাম ও পদবি | প্রধান বক্তব্য ও আশ্বস্তকরণ | প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি পদক্ষেপ |
ডক্টর আরিফুর রহমান (চেয়ারম্যান, প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি) | নিয়মিত নিরীক্ষায় সংশ্লিষ্ট ২৬টি পোশাক কারখানার মালিকদের নামে সুনির্দিষ্ট আর্থিক দায় ও দেনা চিহ্নিত করা হয়েছে। | অভিযুক্ত মালিকদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানতে একটি স্বাধীন ফরেনসিক নিরীক্ষা চলছে। |
মোহাম্মদ মনজুর মফিজ (ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি) | ব্যাংকটি আর্থিক দিক থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও স্থিতিশীল। চলমান তদন্তের কারণে ব্যাংকের সুনাম নিয়ে প্রশ্ন তোলা ঠিক নয়। | ভবিষ্যতে এই ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও জালিয়াতি রোধে অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা সর্বোচ্চ শক্তিশালী করা হয়েছে। |
প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি-এর বর্তমান চেয়ারম্যান ডক্টর আরিফুর রহমান জানান যে, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কার্যক্রম চলাকালীন সংশ্লিষ্ট ২৬টি প্রতিষ্ঠানের পোশাক কারখানা মালিকদের নামে সুনির্দিষ্ট আর্থিক দায়-দেনা ও অনিয়ম ধরা পড়ে। এই অনিয়মের সত্যতা পাওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও তাদের মালিকদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত গভীরতা এবং নেপথ্যের কারণ উদঘাটনের জন্য একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও বহিঃস্থ ফরেনসিক নিরীক্ষা দল দ্বারা বিশেষ তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এই তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রাপ্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মনজুর মফিজ ব্যাংকের গ্রাহক, অংশীদার এবং আমানতকারীদের পূর্ণ আস্থা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন যে, প্রিমিয়ার ব্যাংক আর্থিক ও ব্যবসায়িক উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত সুসংহত এবং শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে যে বিষয়গুলো তদন্তাধীন রয়েছে, সেগুলোকে ভিত্তি করে ব্যাংকের সামগ্রিক সুনাম ও বৈধ কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করা অনুচিত। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ব্যাংকিং খাতের পেশাদারিত্ব এবং গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর। এই লক্ষ্যে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি বিভাগকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে, যেন ভবিষ্যতে যেকোনো ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।
