ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল) সম্প্রতি চট্টগ্রামে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আয়োজিত এক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তাদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেছে। এই স্বীকৃতি মূলত তাদের দেওয়া হয়েছে যারা ‘নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ক্ষুদ্র উদ্যোগ পুনঃঅর্থায়ন প্রকল্প’ এর আওতায় নেওয়া ঋণ সফলভাবে পরিশোধ করেছেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত প্রণোদনা অর্জন করেছেন।
চট্টগ্রামের ইবিএল অফিসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্যাংকের হেড অব অ্যাসেট সালেকিন ইব্রাহিম এবং ব্রাঞ্চ এরিয়া হেড মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মোট ৫২ জন নারী উদ্যোক্তা উপস্থিত ছিলেন, যারা বিভিন্ন খাতে নিজস্ব উদ্যোগে সাফল্য অর্জন করেছেন।
ইবিএল কর্মকর্তা জানান, এই ধরনের স্বীকৃতি নারী উদ্যোক্তাদের উদ্দীপনা বৃদ্ধি করে এবং ব্যবসায়িক সক্ষমতা উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখে। সালেকিন ইব্রাহিম বলেন, “নারী উদ্যোক্তাদেরকে সহায়তা করা আমাদের অঙ্গীকার। তারা যে পরিশ্রম ও উদ্যোগ দেখিয়েছেন, তা দেশের অর্থনীতিকে নতুন দিশা দেখাবে।”
চট্টগ্রামের উদ্যোক্তাদের মধ্যে অনেকেই খাদ্য উৎপাদন, হস্তশিল্প, বস্ত্র, পরিবহন এবং কসমেটিক্স খাতে সফল ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ব্যাংক আশা করছে, এই স্বীকৃতি আরও নারীদের উদ্যোক্তা হওয়ার প্রেরণা দেবে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই) খাতকে শক্তিশালী করবে।
নিচের টেবিলে অংশগ্রহণকারীদের খাতভিত্তিক ঋণ পরিশোধ ও প্রণোদনার তথ্য উপস্থাপন করা হলো:
| ক্রমিক | উদ্যোক্তার নাম | ব্যবসার ধরন | ঋণের পরিমাণ (টাকা) | পরিশোধের সময়কাল | প্রাপ্ত প্রণোদনা (টাকা) |
|---|---|---|---|---|---|
| ১ | সুমাইয়া আক্তার | হস্তশিল্প | ৫,০০,০০০ | ১২ মাস | ৫০,০০০ |
| ২ | নুরুল হক | খাদ্য উৎপাদন | ৭,০০,০০০ | ১৮ মাস | ৭০,০০০ |
| ৩ | রিফাতা খান | বস্ত্র | ৬,০০,০০০ | ১৫ মাস | ৬০,০০০ |
| ৪ | মেহেরুন নাহার | পরিবহন | ৮,০০,০০০ | ২০ মাস | ৮০,০০০ |
| ৫ | জাহানারা বেগম | কসমেটিক্স | ৪,৫০,০০০ | ১০ মাস | ৪৫,০০০ |
ইবিএল কর্মকর্তারা জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক সফলতা তুলে ধরা হচ্ছে, যা দেশের অন্যান্য নারী উদ্যোক্তাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে। ব্যাংক আরও নানাবিধ প্রজেক্ট ও সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে এই ধারা সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা করছে।
এছাড়া, ঋণ পরিশোধের শৃঙ্খলা ও প্রণোদনা অর্জনের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা শুধুমাত্র নিজেদের ব্যবসাকে সমৃদ্ধ করছেন না, বরং দেশের অর্থনীতির ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতকে শক্তিশালী করতেও অবদান রাখছেন। ইবিএল আশা করছে, এই ধরনের উদ্যোগ দেশের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সহায়ক ভূমিকা রাখবে এবং আরও নতুন উদ্যোক্তা গড়ে উঠবে।
