রাজধানীর শনির আখড়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় সাজিদ হাসান (২৮) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সকালে মোটরসাইকেলে চলার সময় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় গুরুতর আহত হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং আবারও নগরীর সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নিহত সাজিদ হাসান লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সোলাইমানের ছেলে এবং একটি বেসরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে পণ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, চাকরিসূত্রে তিনি ঢাকায় অবস্থান করতেন এবং নিয়মিত কর্মস্থলে যাতায়াত করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, রায়েরবাগ ও শনির আখড়ার মাঝামাঝি সড়কে সকালে যানবাহনের চাপ তুলনামূলক বেশি ছিল। এমন সময় দ্রুতগতিতে চলা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা মোটরসাইকেলটিকে পেছন দিক থেকে ধাক্কা দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে সাজিদ মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান।
স্থানীয় পথচারী ও আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন। তবে আঘাতের মাত্রা বেশি হওয়ায় বেলা ১১টা ৪২ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা গেছে, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার দিন দিন বাড়ছে। বেপরোয়া গতি, লেন শৃঙ্খলার অভাব, অপরিকল্পিত যান চলাচল এবং অসচেতনতা এ ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। বিশেষ করে ব্যস্ত সড়কে মোটরসাইকেল আরোহীদের সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার ও সতর্ক চালনা অত্যন্ত জরুরি।
নগরবাসীর দাবি, রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলোতে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, ঝুঁকিপূর্ণ মোড়ে নজরদারি বৃদ্ধি এবং গণপরিবহন ও অটোরিকশা চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহতের নাম | সাজিদ হাসান |
| বয়স | ২৮ বছর |
| বাড়ি | শ্রীরামপুর, রামগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর |
| পেশা | পণ্য নির্বাহী কর্মকর্তা |
| দুর্ঘটনার স্থান | শনির আখড়া, ঢাকা |
| দুর্ঘটনার সময় | রবিবার সকাল সোয়া ৯টা |
| হাসপাতালে নেওয়া হয় | ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল |
| মৃত্যুর ঘোষণা | সকাল ১১টা ৪২ মিনিট |
পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে হাসপাতাল এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এক সম্ভাবনাময় তরুণের অকাল মৃত্যু পরিবার ও সহকর্মীদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে রইল।
