জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ই জুলাই ২০২৬, ৮:৫২ এএম

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ৮ পিস ইয়াবাসহ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক স্থানীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ জুলাই দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর বাজার এলাকায় কঞ্চিবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছিল। অভিযান চলাকালে পুলিশ গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে যে, ধর্মপুর বাজারের জোবেদা ফিলিং স্টেশনের ক্যাশ কাউন্টারের পাশের একটি ফাঁকা জায়গায় কতিপয় ব্যক্তি মাদকদ্রব্য কেনাবেচার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে এক ব্যক্তি দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ধাওয়া করে পুলিশ তাকে হাতেনাতে আটক করে। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে আটক ব্যক্তির দেহ তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিকালে তার পরিহিত প্যান্টের পকেট থেকে সাদা পলিথিনে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মোড়ানো অবস্থায় ৮ পিস অবৈধ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম শাকিল মিয়া ওরফে শাকিল খান (২৬)। তিনি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের পশ্চিম সীচা (হাজীপাড়া) গ্রামের মো. নূর মোহাম্মদ আলীর ছেলে। রাজনৈতিক পরিচয়ে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শাখার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অভিযান শেষে কঞ্চিবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নওশের আলী বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। কঞ্চিবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. সেলিম রেজা জানান, মাদক নির্মূলে তাদের এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রাজনৈতিক নেতার মাদকসহ গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরপরই দলটির উপজেলা শাখা অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
উপজেলা সদস্যসচিবের বক্তব্য: সুন্দরগঞ্জ উপজেলা এনসিপির সদস্যসচিব মো. আশানুর রহমান বলেন, “মাদক কারবারি কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারে না, সে যে-ই হোক না কেন। অপরাধীর পরিচয় শুধুই অপরাধী। প্রচলিত আইন মোতাবেক তার যথাযথ বিচার হওয়া উচিত। অনৈতিক কর্মকাণ্ডের খবর পাওয়ার সাথে সাথেই উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি থেকে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।”
উপজেলা আহ্বায়কের বক্তব্য: সুন্দরগঞ্জ উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. আল শাহাদৎ জামান জিকো নিশ্চিত করে জানান যে, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে শাকিল মিয়াকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতির ধারাবাহিকতায় স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, মাদকের উৎস ও এর সাথে যুক্ত অন্যান্য সহযোগীদের চিহ্নিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য