খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ই জুলাই ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম

বিশ্ব অর্থনীতির গতিপ্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও বৈদেশিক লেনদেনের পরিধি ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। এই বর্ধিত বাণিজ্যিক চাহিদাকে সচল রাখতে দেশের বাজারে প্রতিনিয়ত ওঠানামা করছে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দেওয়া সংস্কারমূলক শর্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যায়ক্রমে ডলারের দাম বাড়াচ্ছে এবং দেশীয় মুদ্রা টাকার মান কমাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় চলতি সপ্তাহে ডলারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৫০ পয়সা, যা দেশের আমদানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের মনে কিছুটা অস্বস্তি ও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে আজ ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রধান প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার সর্বনিম্ন বিনিময় হারের একটি সার্বিক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
ব্যাংকিং খাতের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, বর্তমানে খোলাবাজারে চাহিদামতো বৈদেশিক মুদ্রার পর্যাপ্ত জোগান থাকার পরও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে টাকার মান অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে চলতি মাসের শুরুতেই দেশের আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে ডলারের দাম গড় হিসেবে ১৩ পয়সা এবং সর্বোচ্চ হিসেবে ১৫ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছিল। অথচ ঠিক গত মাসেও আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ডলারের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দাম ১২২ টাকা ৮৫ পয়সায় সম্পূর্ণ স্থিতিশীল ছিল। মাসের ব্যবধানে সেই সর্বনিম্ন দাম এখন ১২৩ টাকা ৫৮ পয়সায় এসে ঠেকেছে, যা সার্বিক আমদানি খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আর্থিক খাতের শীর্ষ বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর ও নিবিড় মনিটরিং এবং সেই সঙ্গে প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহ ইতিবাচক ধারায় থাকায় খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেট এবং অফিশিয়াল রেটের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিশাল ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। এটি হুন্ডি প্রতিরোধ ও সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক দিক হলেও আইএমএফের শর্ত পূরণ করতে গিয়ে গত কয়েকদিনে ডলারের এই হঠাৎ দাম বৃদ্ধি আমদানিনির্ভর ব্যবসাগুলোতে কিছুটা আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি তেল, সার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারের নিত্যপরিবর্তনশীল পরিস্থিতি এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ চাহিদার ওপর ভিত্তি করে যেকোনো সময় এই বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তিত হতে পারে। তাই যেকোনো ধরনের বড় বাণিজ্যিক লেনদেনের পূর্বে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বর্তমান রেট সরাসরি যাচাই করে নেওয়া বাঞ্ছনীয়।
মন্তব্য