খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই মে ২০২৬, ৫:৩১ পিএম

গাজা সিটিতে এক ভয়াবহ বিমান হামলায় হামাসের শীর্ষ সামরিক নেতা ইজ্জ আল-দিন আল-হাদাদ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরাইল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই হামলা সংঘটিত হওয়ায় অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং ইসরাইলি নিরাপত্তা সংস্থা এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, শুক্রবার বিকেলে পরিচালিত “নির্ভুল ও লক্ষ্যভিত্তিক” বিমান হামলায় আল-হাদাদকে টার্গেট করা হয়। তাদের দাবি, হামাসের সামরিক শাখা কাসাম ব্রিগেডের এই শীর্ষ নেতা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের বড় ধরনের হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন এবং পরবর্তীতে জিম্মি পরিস্থিতি পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
গাজার জরুরি পরিষেবা বিভাগ জানায়, হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন ৫০ জনেরও বেশি মানুষ। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, আল-রিমাল এলাকার একটি আবাসিক ভবন এবং কাছাকাছি একটি সড়কে থাকা একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক দুটি হামলা চালানো হয়।
গাজার আল-শিফা হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সালমিয়া জানান, নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী এবং একটি শিশুর মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের উদ্ধারকর্মীরা প্রায় ৩০ জন আহতকে উদ্ধার করে অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আল-হাদাদ হামাসের ভেতরে অত্যন্ত গোপনীয় জীবনযাপন করতেন। তাকে সংগঠনের অভ্যন্তরে “কাসামের ভূত” নামে পরিচিত বলা হতো। ইয়াহিয়া সিনওয়ার, মোহাম্মদ সিনওয়ার এবং মোহাম্মদ দেইফের মৃত্যুর পর তিনি হামাসের সামরিক নেতৃত্বে সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিলেন।
হামাস এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে গাজার কয়েকটি মসজিদ থেকে তার মৃত্যুর খবর প্রচার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানায়। অন্যদিকে ইসরাইলি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, অভিযানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
নিচে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| হামলার সময় | শুক্রবার বিকেল |
| স্থান | গাজা সিটি, আল-রিমাল এলাকা |
| লক্ষ্যবস্তু | ইজ্জ আল-দিন আল-হাদাদ |
| নিহত সংখ্যা | অন্তত ৭ জন |
| আহত সংখ্যা | ৫০ জনের বেশি |
| হামলার ধরন | আবাসিক ভবন ও গাড়িতে বিমান হামলা |
| সংশ্লিষ্ট পক্ষ | ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ও হামাস |
গত বছরের অক্টোবর থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও গাজায় সময়ে সময়েই হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ইসরাইলের দাবি, এসব হামলা মূলত হামাসের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং সম্ভাব্য হুমকি প্রতিরোধের অংশ। মার্কিন মধ্যস্থতাকারীরা স্বীকার করেছেন, যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি স্থিতিশীল না হলেও এটি কিছুটা হলেও সংঘাত কমিয়েছে।
এই ঘটনার পর গাজা ও আশপাশের অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করছে পরবর্তী রাজনৈতিক ও সামরিক প্রতিক্রিয়ার ওপর।
মন্তব্য