,

বগুড়ায় ৪০০ একরের বিসিক শিল্পপার্কসহ একগুচ্ছ মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা

উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি বগুড়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অপার সম্ভাবনাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে প্রায় ৪০০ একর জায়গার ওপর তৈরি হচ্ছে একটি সুবিশাল বিসিক শিল্পপার্ক। শনিবার সকাল ১১টায় বগুড়ার মমইন কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের বর্ণাঢ্য অভিষেক অনুষ্ঠানে এ সুসংবাদ দেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত সরকারের প্রভাবশালী অন্যান্য মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা উপস্থিত থেকে বগুড়ার দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণসহ শিল্প, যাতায়াত ব্যবস্থা ও সামগ্রিক অবকাঠামো ঢেলে সাজাতে একাধিক বড় প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য ও জরিপে দেখা গেছে উত্তরবঙ্গের এই শিল্পপ্রধান শহরে ব্যবসার বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বিগত দুই দশক ধরে কাঙ্ক্ষিত সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া যায়নি। বর্তমানে বগুড়ায় উৎপাদিত কৃষিজাত যন্ত্রপাতি, হালকা প্রকৌশল সামগ্রী ও খাদ্যপণ্য থেকে প্রতি বছর প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজার তৈরি হচ্ছে, যা দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে অনন্য ভূমিকা রাখছে। এই ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক চাহিদা মেটাতে এবং অতীতের উন্নয়ন ঘাটতি দূর করে সাম্য ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে গতি ফেরাতে চারশ একরের এই নতুন বিসিক শিল্পপার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে। বগুড়ার পরিশ্রমী উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ ও পরিশ্রমকে এবার রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়ন করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

অভিষেক অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক ভূমিকা স্মরণ করে বলেন, প্রখ্যাত রাষ্ট্রনায়ক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান বগুড়া দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক অগ্রগতিতে সবসময় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। সে কারণে এই অঞ্চলের বাণিজ্যিক গুরুত্ব ও ভৌগোলিক সুবিধাকে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে যোগাযোগ কাঠামোর আমূল পরিবর্তন আনছে সরকার।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ঘোষিত পরিকল্পনাগুলোর সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন সময়সূচি তুলে ধরেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে, বগুড়াবাসীর বহুল কাঙ্ক্ষিত সরাসরি বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু হতে যাচ্ছে এবং চলতি বছরের নভেম্বর বা ডিসেম্বরের মধ্যেই এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। এছাড়া ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে বগুড়া বিমানবন্দর থেকে দেশীয় রুটে যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালু, শহরের যানজট নিরসনে রেললাইনের ওপর কয়েকটি ওভারপাস নির্মাণ এবং আগামী মাস থেকেই উচ্চপ্রযুক্তির ড্রোন তৈরির কারখানার নির্মাণকাজ শুরুর সুস্পষ্ট পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্টজনরা শহরের হারিয়ে যাওয়া গৌরব পুনরুদ্ধারে একঝাঁক প্রস্তাব তুলে ধরেন। এসব ঘোষিত মেগা উদ্যোগের মধ্যে বিসিক শিল্পপার্ক ও রেলপথ ছাড়াও রয়েছে বগুড়ায় একটি আন্তর্জাতিক মানের বহুমাত্রিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, নতুন ‘বগুড়া সড়ক জোন’ গঠন, ক্রীড়া প্রেমীদের জন্য সমন্বিত ক্রীড়াগ্রামসহ আন্তর্জাতিক ফুটবল স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং মৃতপ্রায় ঐতিহাসিক করতোয়া নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনতে পূর্ণাঙ্গ পুনর্জীবন প্রকল্প।

বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত সভাপতি আতিকুর রহমান বাদলের সভাপতিত্বে এই বিশেষ সাধারণ সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, বিসিক চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক এবং শীর্ষস্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তারা অংশ নেন। একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্পের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ পেয়ে ঝিমিয়ে পড়া স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে দ্রুত নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী সম্প্রদায়।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।