খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই মে ২০২৬, ৪:৩৬ পিএম

লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত বাংলাদেশি নারী শ্রমিক দিপালী বেগম (৩৪)-এর মরদেহ প্রায় এক মাস পর শুক্রবার সকালে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পূর্ব শালেপুর মুন্সিরচর গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছেছে। মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয় এবং স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে গ্রামটি।
দিপালীর মরদেহ বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। এরপর সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। এই সময় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফ্রি অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহটি পরিবারের সদস্যরা গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন।
রাত গভীর হওয়ার কারণে তারা রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার দোহার উপজেলার মৈনট ঘাটে পৌঁছান। সেখান থেকে নদীপথে ট্রলারে করে চরভদ্রাসনের আদারচর ঘাটে যান। এরপর ভোরের দিকে কাঁচা পথ ও দুর্গম চরাঞ্চল পেরিয়ে ঘোড়ার গাড়িতে করে দিপালীর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় গ্রামের বাড়িতে। পুরো যাত্রাপথে কফিনবাহী ঘোড়ার গাড়ির দৃশ্য এলাকাবাসীর মধ্যে নীরব আবেগের সৃষ্টি করে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে স্বজনরা ভেঙে পড়েন। দিপালীর মা, বাবা, ভাই-বোনসহ আত্মীয়রা কান্নায় মাতম করেন। তার ছোট বোন লাইজু আক্তার জানান, পরিবারের জন্য দিপালী দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট করে আসছিলেন এবং এমনভাবে তার ফিরে আসা তারা কখনো কল্পনাও করেননি।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, দিপালী বেগম প্রায় ১৫ বছর ধরে প্রবাসে ছিলেন এবং পরিবারের আর্থিক ভরসা হিসেবে কাজ করতেন। ২০১১ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে জীবিকার তাগিদে তিনি লেবাননে যান। সেখানে তিনি পরিবারকে নিয়মিত অর্থ পাঠাতেন, যা দিয়ে সংসার চলত।
দাফনের আগে শুক্রবার সকাল ১০টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ শত শত মানুষ অংশ নেন। পরে মরদেহ গ্রামের পাশের কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. আশিক সিদ্দিকী জানান, দাফন কার্যক্রমের জন্য পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ৩৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তীতে আরও ৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
| তারিখ/সময় | ঘটনা |
|---|---|
| ৮ এপ্রিল | লেবাননের বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় গুরুতর আহত হন দিপালী বেগম |
| ৮ এপ্রিলের পর | রফিক হারিরি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু |
| প্রায় ১ মাস পর | মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন |
| ৭ মে রাত ১১:২০ | মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় |
| ৮ মে সকাল | মরদেহ নিজ গ্রাম পূর্ব শালেপুর মুন্সিরচরে পৌঁছে |
| ৮ মে সকাল ১০টা | জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন |
দীর্ঘ এক মাস পর দিপালী বেগমের মরদেহ দেশে ফিরে আসার মাধ্যমে তার জীবন ও কর্মময় প্রবাস জীবনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে, যা স্থানীয়ভাবে গভীর শোকের পরিবেশ সৃষ্টি করে।
মন্তব্য