বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আয়োজন ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে আন্তর্জাতিক সংগীত অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন ডিজে ও সংগীতশিল্পী সঞ্জয়। তিনি শুধু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চে পারফর্ম করার সুযোগই পাননি, বরং বিশ্বকাপের অফিসিয়াল সংগীত অ্যালবামের অংশ হিসেবেও জায়গা করে নিয়েছেন—যা তার সংগীত ক্যারিয়ারে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সঞ্জয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এই অর্জনের বিষয়টি প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টার ফলেই তিনি এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে শহরে বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশে বড় হয়ে ওঠা তার সংগীতচর্চায় গভীর প্রভাব ফেলেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন সংস্কৃতির সংগীতের সঙ্গে পরিচিত হয়ে তিনি নিজস্ব সৃষ্টিশীল ধারা গড়ে তোলেন।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরের উদ্বোধনী মঞ্চে পারফর্ম করার সুযোগ পাওয়া এবং একই সঙ্গে অফিসিয়াল অ্যালবামে স্থান পাওয়া তার জীবনের অন্যতম গর্বের অর্জন। তার মতে, এই সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সেইসব তরুণের জন্য অনুপ্রেরণা, যারা বড় স্বপ্ন দেখে এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে।
এই প্রজেক্টে সঞ্জয়ের সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংগীতশিল্পী যুক্ত হয়েছেন। তার তৈরি গান “সির সির” অ্যালবামে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যেখানে অংশ নিয়েছেন নোরা ফাতেহি এবং ভেজড্রিম। একই অ্যালবামে আরও রয়েছেন বিশ্ব সংগীতাঙ্গনের বহু পরিচিত তারকা।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো। তিনটি দেশেই পৃথক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার জন্য বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের নির্বাচন করা হয়েছে, যেখানে সঞ্জয়ও স্থান পেয়েছেন। তিনি মঞ্চে পারফর্ম করবেন কেটি পেরি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী লিসার সঙ্গে।
সঞ্জয়ের পারিবারিক প্রেক্ষাপটও তার সংগীত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তার জন্ম শ্রীমঙ্গলে হলেও শৈশব কেটেছে চট্টগ্রামের লাভ লেন এলাকায়। পরবর্তীতে পরিবারসহ তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। তার পরিবারে সংগীতচর্চার পরিবেশ ছিল; তার মা গান করতেন এবং নানি সংগীতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যা শৈশব থেকেই তাকে সংগীতের প্রতি আগ্রহী করে তোলে।
নিচে অ্যালবামের কিছু উল্লেখযোগ্য শিল্পী ও তাদের পরিচিতি উপস্থাপন করা হলো—
| শিল্পীর নাম | সংগীতধারা | দেশ/উৎপত্তি |
|---|---|---|
| শাকিরা | পপ সংগীত | কলম্বিয়া |
| ড্যাডি ইয়াঙ্কি | রেগেটন | পুয়ের্তো রিকো |
| বার্না বয় | আফ্রোবিটস | নাইজেরিয়া |
| রেমা | আফ্রোফিউশন | নাইজেরিয়া |
| দ্য রোলিং স্টোনস | রক সংগীত | যুক্তরাজ্য |
| নোরা ফাতেহি | নৃত্য ও পপ সংমিশ্রণ | কানাডা ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত |
| ভেজড্রিম | হিপহপ সংগীত | যুক্তরাষ্ট্র |
বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরের অফিসিয়াল সংগীত অ্যালবামে বাংলাদেশের একজন শিল্পীর অন্তর্ভুক্তি দেশের সংগীত অঙ্গনের জন্য অত্যন্ত গৌরবজনক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাংস্কৃতিক বিশ্লেষকদের মতে, সঞ্জয়ের এই সাফল্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক উপস্থিতিকে আরও সুদৃঢ় ও বিস্তৃত করেছে।
