ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় মোটরসাইকেলকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে রবিউল ইসলাম (৩৬) নামের এক যুবককে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দী করে প্রাইভেট কারে গুম করার চেষ্টা চলাকালে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এ সময় ঘটনাটি প্রকাশ হয়ে পড়ে এবং স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে দুজনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করেন।
গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার ময়না ইউনিয়নের হাটখোলারচর গ্রামের সাতৈর–মহম্মদপুর সড়কের বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রবিউল ইসলাম মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার সিন্ধাইন গ্রামের গোলাম সরোয়ার শেখের ছেলে। তিনি পেশায় পাওয়ার ট্রিলার চালক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, বোয়ালমারীর হাটখোলারচর গ্রামের শহিদুল শেখের সঙ্গে প্রায় দুই বছর আগে মহম্মদপুর উপজেলার এক তরুণীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। সম্প্রতি শহিদুল শেখ তাঁর শ্যালকের একটি মোটরসাইকেল বন্ধক রাখেন, যা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
নিহতের মামা মুসা মোল্যার বক্তব্য অনুযায়ী, পার্শ্ববর্তী এক ব্যক্তির অনুরোধে গতকাল দুপুরে রবিউল ইসলাম মোটরসাইকেল উদ্ধারের উদ্দেশ্যে বোয়ালমারীতে যান। সেখানে মোটরসাইকেল ফেরত নেওয়া নিয়ে শহিদুল শেখ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি ও বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে তারা সেখান থেকে ফিরে আসার পথে আবার ফোন করে তাদের ডেকে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপরই পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে পরিবার দাবি করেছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, হত্যার পর অভিযুক্তরা একটি ভাড়া করা প্রাইভেট কারে মরদেহ তুলে সেটি গোপনে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় গাড়িটি সড়কের পাশে খাদে পড়ে গেলে তারা দুর্ঘটনার কথা বলে ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা করে। তবে স্থানীয়রা উদ্ধার কাজে এগিয়ে গেলে গাড়ির ভেতর বস্তাবন্দী অবস্থায় গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান।
ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয়রা পাঁচজনের মধ্যে দুজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। অন্য তিনজন পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
আটক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য
| নাম | বয়স | ঠিকানা | ভূমিকা |
|---|---|---|---|
| শাহজাদা | ২৩ বছর | আন্দারকোঠা, বোয়ালমারী | আটক ব্যক্তি |
| তপু সাহা | ২২ বছর | পঙ্কজ সাহার পুত্র, বোয়ালমারী | আটক ব্যক্তি |
| শহিদুল শেখ | অজ্ঞাত | হাটখোলারচর | অভিযুক্ত, পলাতক |
| সহযোগী আরও তিনজন | অজ্ঞাত | অজ্ঞাত | পলাতক |
নিহতের বাবা গোলাম সরোয়ার শেখ বলেন, তাঁর ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
ফরিদপুর জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মো. আজম খান জানান, নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক রাখা হয়েছে এবং মূল অভিযুক্তসহ কয়েকজন পলাতক রয়েছে। ঘটনায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
