শাকিলের মরদেহ উদ্ধার, আত্মহত্যার সন্দেহ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলায় এক নির্মাণ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মো. শাকিল (২৬) নামের ওই তরুণ শ্রমিকের মরদেহ শুক্রবার (১ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রানীহাটী ইউনিয়নের হাটরামচন্দ্রপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত শাকিল ওই গ্রামের বাসিন্দা মো. জাকারিয়ার ছেলে। তিনি পেশাগতভাবে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে বিভিন্ন স্থানে কাজ করতেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসবাস করতেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শাকিল নিজ ঘরের শয়নকক্ষে পরিবারের অগোচরে কীটনাশক পান করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে বিষয়টি পরিবারের নজরে আসে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুপুর দেড়টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরপরই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রতিবেশীরা জানান, শাকিল শান্ত স্বভাবের ছিলেন এবং তার আচরণে সাম্প্রতিক সময়ে কোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়নি। তবে কী কারণে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মানসিক অস্থিরতা বা ব্যক্তিগত কোনো সমস্যার কারণে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিতে পারেন। তবে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

এ ঘটনায় সদর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

ঘটনার সময়রেখা

সময়ঘটনা
সকাল সাড়ে ৯টাশাকিলের কীটনাশক পান করার অভিযোগ
সকাল ১০টার দিকেপরিবারের সদস্যরা তাকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেন
সকাল ১১টাজেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়
দুপুর দেড়টাচিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন
বিকেলমরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, এ ধরনের ঘটনা পরিবার ও সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। তারা তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে আরও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

এদিকে, শাকিলের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবার শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো গ্রামজুড়ে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।