বগুড়া জেলা শহরে এক তরুণীকে চেনা-জানার সূত্র ধরে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বগুড়া জেলা সদর থানার পুলিশ রবিবার দিবাগত গভীর রাতে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে এই তিন অভিযুক্তকে আইনের আওতায় নিয়ে আসে। পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, রবিবার রাত সাড়ে ১০টার পর শহরের ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া এলাকার একটি নির্জন ও নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে এই অপরাধমূলক ঘটনাটি ঘটে। আজ সোমবার সকালে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইব্রাহীম আলী গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
ধর্ষণের এই ঘটনার সাথে জড়িত গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরিচয়, অপরাধের সময় ও স্থানসহ মামলার মূল বিবরণ নিচে একটি ছকের মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরা হলো:
| মামলার বিবরণ ও সূচক | সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি এবং পরিসংখ্যান |
| গ্রেপ্তারকৃত প্রথম আসামি | কাওছার (১৯), পিতা: রায়হান, ফুলবাড়ী দক্ষিণ হাজীপাড়া |
| গ্রেপ্তারকৃত দ্বিতীয় আসামি | বাধন (১৯), পিতা: মৃত হাতেম আলী পাইকার, ফুলবাড়ী দক্ষিণ পাড়া |
| গ্রেপ্তারকৃত তৃতীয় আসামি | রকি (১৯), পিতা: গোলাম রব্বানী, উত্তর কাটনারপাড়া |
| অপরাধ সংঘটনের সুনির্দিষ্ট স্থান | ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া ঈদগাহ মাঠের পাশে, শ্মশানঘাট রাস্তার নির্মাণাধীন ভবন |
| ঘটনার তারিখ ও সময়কাল | রবিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিট থেকে সাড়ে ১০টার পর |
| প্রাথমিক উদ্ধার কার্যক্রম | উপ-পরিদর্শক আনাহার হোসেন ও ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির দল |
| আইনি পদক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থা | বগুড়া সদর থানায় নিয়মিত মামলা রুজু এবং আসামিদের আদালতে চালান |
বগুড়া সদর থানায় দায়েরকৃত মামলার প্রাথমিক বিবরণী ও এজাহার থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণীর সাথে অভিযুক্ত যুবকদের পূর্ববর্তী পরিচয় ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। সেই সুবাদে রবিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ওই তরুণী শহরের পুলিশ প্লাজা নামক বাণিজ্যিক ভবনের সপ্তম তলায় অবস্থিত একটি দোকানে যান। সেখানে পূর্ব থেকেই অবস্থান করছিলেন অভিযুক্ত কাওছার, বাধন, সাদিক ও অজ্ঞাতনামা আরেকজন যুবক। একপর্যায়ে তারা সকলে মিলে মদ্যপান করার সিদ্ধান্ত নেন এবং রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের একটি স্থানীয় হোটেল থেকে মদ সংগ্রহ করেন।
মদ সংগ্রহের পর তারা সকলে রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন শ্মশানঘাট সড়কের পাশে অবস্থিত একটি পুরাতন ও নির্মাণাধীন ভবনে সমবেত হন। সেখানে রকি নামের পূর্বপরিচিত আরেক যুবক এসে তাদের সাথে যোগ দেন। ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ অনুসারে, উক্ত ভবনের ভেতরে মদ্যপানের একপর্যায়ে অভিযুক্ত যুবকেরা জোরপূর্বক তাকে অবরুদ্ধ করে এবং পালাক্রমে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে।
অপরাধ সংঘটনের পর অভিযুক্ত বাধন ওই তরুণীকে ভবন থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার সময় শহরের একটি বড় বাজারের কাছাকাছি পৌঁছালে ভুক্তভোগী তরুণী সুযোগ বুঝে চিৎকার শুরু করেন এবং স্থানীয় পথচারী ও বাসিন্দাদের কাছে সাহায্যের অনুরোধ জানান। তরুণীর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসতে থাকলে বেগতিক দেখে অভিযুক্ত বাধন দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান।
পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা অবিলম্বে বিষয়টি নিকটস্থ থানা পুলিশকে অবহিত করেন। সংবাদ পাওয়া মাত্রই বগুড়া সদর থানার নিয়ন্ত্রণাধীন ফুলবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক আনাহার হোসেন পুলিশ দলসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং ভুক্তভোগী তরুণীকে উদ্ধার করে শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, তরুণীর সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ তৎপরতা চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং এই ঘটনার সাথে জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের সশরীরে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের বিশেষ চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আজ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
