পোস্টহারভেস্ট ক্ষতি হ্রাসে বিএইউ প্রকল্পে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সহায়তা

মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি-এর অর্থায়নে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি গবেষণা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। “ফসল ও মাছের সংরক্ষণ-পরবর্তী ক্ষতি কমাতে সংকর ধরনের শুষ্ককরণ যন্ত্র ব্যবস্থা উন্নয়ন” শীর্ষক এ গবেষণা প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালা শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রকল্পটি মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি-এর কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল থেকে এক কোটি ষাট লাখ টাকার অনুদানে বাস্তবায়িত হয়। এ অর্থায়নের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি কৃষক ও মৎস্যজীবীদের জন্য উপযোগী আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও প্রয়োগের সুযোগ পায়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মজিদ। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি-এর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান ঝুঁকি কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তা ড. তাপস চন্দ্র পাল এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার একজন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল আলম।

অনুষ্ঠানে কৃষি উদ্যোক্তা, সুবিধাভোগী, বিজ্ঞানী এবং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। সেখানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয় এবং উন্নত সংকর শুষ্ককরণ যন্ত্রগুলোর কার্যকারিতা প্রদর্শন করা হয়। গবেষণার মাধ্যমে ফসল ও মাছ সংরক্ষণে পরবর্তী পর্যায়ের ক্ষতি কমানোর প্রযুক্তিগত দিকগুলো তুলে ধরা হয়।

এই প্রকল্পের আওতায় মোট উনিশটি সংকর ধরনের শুষ্ককরণ যন্ত্র তৈরি করা হয়েছে। এসব যন্ত্র কৃষিপণ্য ও মৎস্যজাত পণ্য সংরক্ষণে ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে সহায়তা করে এবং খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখে।

ব্যাংকের সামাজিক প্রভাব বিস্তারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে দশটি যন্ত্র বিনামূল্যে বিভিন্ন অঞ্চলে বিতরণ করা হয়েছে। এসব অঞ্চল হলো কক্সবাজার, পটুয়াখালী, সাতক্ষীরা, টাঙ্গাইল, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি।

অতিরিক্ত ছয়টি যন্ত্র বর্তমানে বিতরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং তিনটি যন্ত্র বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছে।

নিচে প্রকল্পের যন্ত্র বিতরণ ও ব্যবহারের তথ্য উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়সংখ্যাব্যবহার বা অঞ্চল
মোট তৈরি যন্ত্র১৯টিগবেষণা প্রকল্প
বিতরণকৃত যন্ত্র১০টিকক্সবাজার, পটুয়াখালী, সাতক্ষীরা, টাঙ্গাইল, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি
বিতরণাধীন যন্ত্র৬টিপ্রক্রিয়াধীন
গবেষণায় ব্যবহৃত যন্ত্র৩টিবাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

গবেষণা সংশ্লিষ্টরা জানান, এই উদ্যোগ কৃষি ও মৎস্য খাতে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ বাড়াতে সহায়তা করছে। এর মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণে ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।