ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ঘিরে আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারে ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতা পুনরায় শক্তিশালী হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিবেচিত মার্কিন ডলার থেকে সরে এসে ইউরো ও ব্রিটিশ পাউন্ডের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ইউরোপীয় মুদ্রাবাজারে, যেখানে বুধবার সকালের দিকেই ডলারের মান উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সকাল আটটা দশ মিনিটে ইউরোপীয় লেনদেনে মার্কিন ডলার ইউরোর বিপরীতে প্রায় এক দশমিক এক শতাংশ কমে যায়। একই সময়ে ব্রিটিশ পাউন্ডের বিপরীতে ডলারের মান প্রায় শূন্য দশমিক নয় শতাংশ হ্রাস পায়। এতে স্পষ্ট হয় যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে পুনরায় আস্থা ফিরে আসছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাধারণত বৈশ্বিক যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা বা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় মার্কিন ডলারকে নিরাপদ মুদ্রা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু যুদ্ধবিরতির খবর সেই নিরাপদ আশ্রয়ের চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে। ফলে বাজারে ডলার বিক্রির চাপ তৈরি হয় এবং স্বাভাবিকভাবেই ইউরো ও পাউন্ড তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে চলে আসে।
তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা নাও হতে পারে। কারণ বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার নীতি, মুদ্রাস্ফীতির তথ্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সূচক ডলারের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। তাই ভূরাজনৈতিক স্বস্তি থাকলেও অর্থনৈতিক সূচকগুলো যদি ডলারের পক্ষে থাকে, তবে বাজার আবারও পরিবর্তিত হতে পারে।
অন্যদিকে, জ্বালানি বাজারও এই পরিবর্তনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমলে তেল সরবরাহে স্থিতিশীলতা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ইউরোপীয় অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে, কারণ উচ্চ জ্বালানি মূল্য সাধারণত ইউরোপীয় মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। ফলে যুদ্ধবিরতির খবরকে অনেকে সাময়িক ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন।
বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, বাজারে যে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে তা স্বল্পমেয়াদি প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তবে কেউ কেউ এটিকে সম্ভাব্য নতুন প্রবণতার সূচনা হিসেবেও বিবেচনা করছেন, যা আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও পরিষ্কার হবে।
নিচে সাম্প্রতিক মুদ্রাবাজার পরিবর্তনের একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—
| মুদ্রা জুটি | পরিবর্তনের হার | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|
| মার্কিন ডলার বনাম ইউরো | প্রায় এক দশমিক এক শতাংশ পতন | এক ইউরো = এক দশমিক সতেরো মার্কিন ডলার |
| মার্কিন ডলার বনাম ব্রিটিশ পাউন্ড | প্রায় শূন্য দশমিক নয় শতাংশ পতন | এক ব্রিটিশ পাউন্ড = এক দশমিক চৌত্রিশ মার্কিন ডলার |
বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। রাজনৈতিক অগ্রগতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সিদ্ধান্ত এবং জ্বালানি বাজারের গতিপ্রকৃতি—এই তিনটি বিষয়ই আগামী দিনে মুদ্রাবাজারের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা আপাতত অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণের কৌশল গ্রহণ করছেন।
