খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই এপ্রিল ২০২৬, ১২:৯ এএম

ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে হামলা চালানোর সময় ভূপাতিত এফ–১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানের দুই ক্রুকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এটি ছিল এক অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক অভিযান, যেখানে দুটি উচ্চ প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান এবং একটি হেলিকপ্টার হারানোর ঝুঁকি নেওয়া হয়েছিল।
Table of Contents
ভূপাতিত বিমানটির একজন পাইলট পারস্য উপসাগরের ৩০ মাইল দূরের পার্বত্য অঞ্চলে অবতরণ করেন। অপর বিমানসেনা, একজন কর্নেল, ইজেক্টর সিট থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় বের হয়ে বেঁচে যান। তিনি সারভাইভাল, ইভেইশন, রেজিস্ট্যান্স অ্যান্ড এস্কেপ (এসইআরই) কৌশল অনুসারে নিরাপদ স্থানে আত্মগোপন করেন।
পাইলটদের উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের কয়েকশ সদস্য অংশ নেন, যার মধ্যে ছিলেন নেভি সিলস, ডেল্টা ফোর্স অপারেটর এবং ২৪তম স্পেশাল ট্যাকটিকস স্কোয়াড্রনের প্যারা-রেসকিউম্যানরা।
একটি পরিত্যক্ত এয়ারফিল্ডকে ২৪ ঘণ্টার জন্য অস্থায়ী সেনাঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। উদ্ধারকারীরা ব্যবহার করেছেন সি-১৩০জে পরিবহন বিমান, এমএইচ-৬ লিটল বার্ড হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং এ-১০ ওয়ারথগ যুদ্ধবিমান।
উদ্ধার অভিযানের মূল ধাপগুলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| স্থান | ইরান, কোহগিলুয়েহ ও বয়ার-আহমদ প্রদেশ |
| সময়কাল | প্রায় ৩৬ ঘণ্টা (ভূপাতন থেকে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন) |
| অংশগ্রহণকারী | নেভি সিলস, ডেল্টা ফোর্স, ২৪তম স্পেশাল ট্যাকটিকস স্কোয়াড্রন |
| ব্যবহারকৃত যান | এফ–১৫ই, সি-১৩০জে, এমএইচ-৬ লিটল বার্ড, ড্রোন, এ-১০ ওয়ারথগ |
| ধ্বংস করা যান | ২টি পরিবহন বিমান, ১টি হেলিকপ্টার |
| চ্যালেঞ্জ | গুরুতর আহত বিমানসেনা, শত্রুপক্ষ নজরদারি, দুর্গম ভূপ্রকৃতি |
বিশেষজ্ঞরা এটিকে সমর ইতিহাসের অন্যতম জটিল ও সাহসী উদ্ধার অভিযান হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিমানসেনা ও উদ্ধারকারীদের প্রশিক্ষণ, ধৈর্য এবং অত্যাধুনিক সরঞ্জামের সমন্বয় এই অভিযানের সফলতার মূল কৌশল হিসেবে কাজ করেছে।
এই অভিযান প্রমাণ করে, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং দক্ষ সৈন্যদলের সমন্বয়ে বিপদসংকুল এলাকায়ও জীবন রক্ষা করা সম্ভব। এটি সামরিক ইতিহাসে দুঃসাহসিক ও স্মরণীয় অভিযান হিসেবে চিহ্নিত হবে।
মন্তব্য