পবিত্র রমজানে পশ্চিম তীরের মসজিদে আগুন ধরালো অবৈধ ইহুদি বসতি কর্তৃপক্ষ

পবিত্র রমজানের পবিত্র মাসেও ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবস্থিত একটি মসজিদ ইসরায়েলের অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার শিকার হয়েছে। সোমবার ভোরে তারা মসজিদের দেয়ালে বর্ণবাদী স্লোগান লিখে এবং আগুন লাগিয়ে মসজিদটিকে ভাঙচুর করেছে, যা স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, এই হামলা ঘটেছে উত্তর পশ্চিম তীরের নাবলুসের কাছে সাররা ও তাল গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত আবু বকর আস-সিদ্দিক মসজিদে। এপির রিপোর্ট অনুযায়ী, ভোরের ফজরের নামাজের সময় মুসল্লিরা মসজিদের প্রবেশদ্বারে ধোঁয়া এবং আগুনের চিহ্ন দেখতে পান।

মসজিদের পাশেই বসবাসকারী মুনির রামদান জানান, “আমি দরজা খুলে স্তম্ভিত হয়ে যাই। সেখানে আগুন জ্বলছিল, কাচ ভাঙা ছিল এবং দরজাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ছিল।” মুনির আরও বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, দুই ব্যক্তি পেট্রোল ও স্প্রে পেইন্ট নিয়ে মসজিদের দিকে যায় এবং হামলার পরে দ্রুত সেখান থেকে দৌড়ে পালায়।

হামলাকারীরা মসজিদের দেয়ালে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য লিখে রেখে গেছেন এবং ‘প্রতিশোধ’ ও ‘প্রাইস ট্যাগ’ শব্দগুলোও লেখা রয়েছে। এমন হামলা শুধুমাত্র মসজিদে ক্ষতি করেনি, বরং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা এবং ধর্মীয় সংবেদনশীলতার উপরও আঘাত হানেছে।

গাজা উপত্যকা এবং পশ্চিম তীর উভয় এলাকাতেই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অন্তত ১,০৯৪ ফিলিস্তিনি পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হাতে নিহত হয়েছেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ এবং ঘরবাড়ি ধ্বংস করার এই ধরনের কর্মকাণ্ড ‘জাতিগত নিধনের’ মধ্যে পড়ে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত বছর পশ্চিম তীরে মোট ৪৫টি মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

নিচের টেবিলে ২০২৩ সালের পশ্চিম তীরের মসজিদে হামলার কিছু পরিসংখ্যান দেখানো হলো:

স্থান/এলাকাহামলার সংখ্যাক্ষতিগ্রস্ত মসজিদের ধরনমন্তব্য/লক্ষ্যবস্তু
সাররা-তাল এলাকা1আবু বকর আস-সিদ্দিক মসজিদদেয়ালে প্রাইস ট্যাগ, অবমাননাকর লেখা
পশ্চিম তীর (মোট)45বিভিন্ন মসজিদঘরবাড়ি ও নামাজঘর ক্ষতিগ্রস্ত
নাবলুস অঞ্চলের অন্যান্য এলাকা12স্থানীয় মসজিদধ্বংস, আগুন, ভাঙচুর

ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্থাপনার প্রতি হামলার এই ধারা অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের সহিংসতা সমাধানের জন্য শান্তি আলোচনার তীব্র প্রয়োজন।

এই ঘটনায় পশ্চিম তীরের মুসল্লিরা আবারও তাদের মৌলিক ধর্মীয় অধিকার এবং নিরাপত্তা সংকটের সামনে দাঁড়িয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা এবং রাজনৈতিক অবহেলার প্রশ্ন তোলে।