হারবাংয়ে এএসআইয়ের আকস্মিক মৃত্যু

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং স্টেশনে সোমবার বিকেলে মাদক সন্দেহে একজন ব্যক্তি আটক করার সময় হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হলো পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রূপণ কান্তি দে (৫২)–এর। তিনি হারবাং পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন এবং তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কদমতলী গ্রামে। স্থানীয় চিকিৎসকরা মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদরোগকে প্রাথমিকভাবে উল্লেখ করেছেন।

ঘটনার বিবরণ

প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মোহাম্মদ জুনাইদ (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে হারবাং স্টেশনে আটক করেন এসআই মোফাজ্জল হোসেন ও এএসআই রূপণ কান্তি দে। এএসআই রূপণ তার প্যান্টের বেল্ট ধরে জুনাইদকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছিলেন, একই সময় এসআই মোফাজ্জল মাদকের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন। হঠাৎ রূপণ মাটিতে ঢলে পড়েন।

প্রাথমিকভাবে তাঁকে উপজেলা বরইতলী রাস্তার মাথা এলাকার মা ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যা সাতটার দিকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু ঘটে। এসময় আটককৃত জুনাইদ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়দের মন্তব্য

বাসিন্দারা জানিয়েছেন, জুনাইদ এলাকায় পরিচিত মাদকসেবী। যদিও তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয়, তবে মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করা হয়েছে।

হাসপাতালের তথ্য

চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জায়নুল আবেদীন জানিয়েছেন, রূপণের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সহকর্মীরা জানিয়েছেন, তিনি পূর্বে দু’বার হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। হঠাৎ মৃত্যুর দৃশ্য দেখে এসআই মোফাজ্জলও অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাঁকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনাপ্রবাহের সময়রেখা

সময় (২৭ মার্চ ২০২৬)ঘটনা
বিকেল ৫:৩০রূপণ কান্তি ও এসআই মোফাজ্জল জুনাইদকে আটক করেন
বিকেল ৫:৪৫রূপণ হঠাৎ মাটিতে পড়ে যান
বিকেল ৬:০০প্রথম হাসপাতালে নেওয়া হয়
সন্ধ্যা ৭:০০চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছানো ও মৃত ঘোষণা

থানার মন্তব্য ও তদন্ত

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন জানিয়েছেন, “হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এএসআই রূপণ কান্তির মৃত্যু হয়েছে। আটককৃত জুনাইদকে মাদকদ্রব্য না পাওয়ায় পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

চকরিয়া থানায় এই ঘটনায় প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা পুলিশি তৎপরতার সময় স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এএসআই রূপণ কান্তির আকস্মিক মৃত্যু চকরিয়া ও হারবাং এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। এই ঘটনায় পুলিশের নিরাপত্তা কার্যক্রমে স্বাস্থ্য বিষয়ক সতর্কতার গুরুত্ব পুনরায় প্রমাণিত হলো।