আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি ছুটি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। আরবি শাবান মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এবারের ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হতে পারে ২১ মার্চ। ইতিমধ্যেই সরকার ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। তবে, যদি ২৪ ও ২৫ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হয়, তাহলে ঈদুল ফিতরের ছুটি একটানা দশ দিন পর্যন্ত প্রসারিত হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঘরমুখো মানুষের সুবিধা এবং দীর্ঘ সময় ধরে কর্মস্থলে থাকা মানুষের স্বার্থ বিবেচনা করে ছুটির সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় প্রেরণ করা হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যনির্বাহী মন্ত্রিসভার বৈঠকে গ্রহণ করা হবে।
এছাড়া, ১৭ মার্চ (মঙ্গলবার) শবে কদরের ছুটি রয়েছে। দেশের সরকারি ছুটির পূর্ণ সূচি নিম্নরূপ:
| তারিখ | দিন | ছুটির কারণ |
|---|---|---|
| ১৭ মার্চ | মঙ্গলবার | শবে কদর |
| ১৯ মার্চ | বৃহস্পতিবার | ঈদুল ফিতর ছুটি (১ম দিন) |
| ২০ মার্চ | শুক্রবার | ঈদুল ফিতর ছুটি (২য় দিন) |
| ২১ মার্চ | শনিবার | ঈদুল ফিতর ছুটি (৩য় দিন) |
| ২২ মার্চ | রোববার | ঈদুল ফিতর ছুটি (৪র্থ দিন) |
| ২৩ মার্চ | সোমবার | ঈদুল ফিতর ছুটি (৫ম দিন) |
| ২৪ মার্চ | মঙ্গলবার | নির্বাহী আদেশে ছুটি সম্ভাব্য |
| ২৫ মার্চ | বুধবার | নির্বাহী আদেশে ছুটি সম্ভাব্য |
| ২৬ মার্চ | বৃহস্পতিবার | স্বাধীনতা দিবস |
| ২৭ মার্চ | শুক্রবার | সাপ্তাহিক ছুটি |
| ২৮ মার্চ | শনিবার | সাপ্তাহিক ছুটি |
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২৪ ও ২৫ মার্চ ছুটি অনুমোদিত হলে ঈদুল ফিতরের মোট ছুটি দশ দিনে পৌঁছাবে। এতে কর্মরত মানুষ, শিক্ষার্থী এবং দেশের সাধারণ জনগণ দীর্ঘ সময়ের জন্য পরিবার ও আত্নীয়দের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় পাঠানো হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যনির্বাহী মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেওয়া হবে।”
রমজান মাসের চাঁদ দেখা অনুযায়ী, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দেশে রমজান মাস শুরু হয়। পরবর্তী দিন ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রথম রোজা পালন করা হয়েছে। শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে, ঈদুল ফিতর ২১ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে।
সরকার আশা করছে, দীর্ঘ ছুটি এবং ঈদ উদযাপনের সঙ্গে এই সময়কাল যুক্ত হলে দেশের মানুষ পরিবার ও সম্প্রদায়ের সঙ্গে আনন্দ ও শান্তি উপভোগ করতে পারবে। বিশেষ করে যারা শহরের বাইরে বা দীর্ঘ সময় ধরে কর্মস্থলে থাকেন, তাদের জন্য এই ছুটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এই পরিকল্পনা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দীর্ঘ ছুটি সাধারণ মানুষের মনোবল বাড়াবে, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাবে এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা সামঞ্জস্য সৃষ্টি করবে।
