খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ই জানুয়ারি ২০২৬, ৬:৪৪ এএম

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় দিনদুপুরে দুই শিশু শিক্ষার্থীকে বস্তায় ভরে অপহরণের এক রোমহর্ষক ও দুঃসাহসিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে মিঠামইন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সন্নিকটে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় পথচারীদের উপস্থিতির কারণে অপহরণকারীদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয় এবং দুই শিশু প্রাণে রক্ষা পায়। এই নজিরবিহীন ঘটনায় পুরো মিঠামইন এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
Table of Contents
ভুক্তভোগী শিশুরা হলো কিশোরগঞ্জের মিঠামইন সদর ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের ফারুক মিয়ার মেয়ে ঝিনুক আক্তার এবং একই গ্রামের আব্দুল হকের মেয়ে সুরাইয়া আক্তার। তারা দুজনেই কামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১টায় বিদ্যালয় ছুটি হওয়ার পর ওই দুই শিশু পায়ে হেঁটে বাড়ির দিকে রওনা দেয়। দেড়টার দিকে তারা মিঠামইন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কাছাকাছি পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেলে করে আসা দুই জন দুর্বৃত্ত তাদের পথ আটকে দাঁড়ায়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা শিশুদের মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে দেয় এবং সঙ্গে থাকা বড় বস্তায় তাদের ভরে ফেলে। ঠিক সেই মুহূর্তে রাস্তা দিয়ে কিছু লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং বস্তাটি রাস্তার পাশে ফেলে রেখে দ্রুত মোটরসাইকেল চালিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত সারণি ও বর্তমান পরিস্থিতি:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| ভুক্তভোগী | ঝিনুক ও সুরাইয়া (প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী)। |
| বিদ্যালয় | কামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিঠামইন। |
| ঘটনার স্থান | মিঠামইন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের নিকটবর্তী এলাকা। |
| অপহৃতদের অবস্থা | স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার এবং বর্তমানে সুস্থ। |
| আইনি পদক্ষেপ | থানায় জিডি করার প্রস্তুতি এবং পুলিশের তদন্ত চলমান। |
| নিরাপত্তা | এলাকায় পুলিশি নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। |
কামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভানু রঞ্জন বিশ্বাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিদ্যালয় ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে নিরাপদ রাস্তায় এমন ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। তিনি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে মিঠামইন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রক্রিয়া চলছে।
মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম আব্দুল্লাহ-বিন-শফিক জানান, “শিশুরা বর্তমানে সুস্থ ও আশঙ্কামুক্ত রয়েছে। উদ্ধারের পর তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। আমরা পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
হাওর জনপদের শান্ত পরিবেশে দিনে-দুপুরে এমন শিশু অপহরণের চেষ্টা অভিভাবক মহলে তীব্র ভীতির সৃষ্টি করেছে। অনেক অভিভাবক এখন তাঁদের সন্তানদের একাকী স্কুলে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, মোটরসাইকেল আরোহী ওই দুই দুর্বৃত্ত স্থানীয় না বহিরাগত, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ এলাকায় সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে।
শিশুদের সুরক্ষায় সমাজ ও রাষ্ট্রকে আরও সজাগ হওয়া প্রয়োজন। মিঠামইনের এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, অপরাধীরা সাধারণ জনপদেও কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অপহরণকারীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাই এখন এলাকার মানুষের প্রধান দাবি, যেন ভবিষ্যতে কোনো কোমলমতি শিশুর ওপর এমন দুঃসাহসিক হাত বাড়ানোর সাহস কেউ না পায়।
মন্তব্য