খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই জানুয়ারি ২০২৬, ৪:৫১ এএম

বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলায় জননিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে পরিচালিত সেনাবাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে একটি পিস্তল ও তিনটি দেশীয় তৈরি ধারালো অস্ত্রসহ দুই যুবককে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের বেড়েরবাড়ী বাবুর বাজার সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় এই রুদ্ধশ্বাস অভিযান পরিচালিত হয়। আটককৃত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অবস্থান করে আসছিলেন বলে জানা গেছে।
Table of Contents
সারাদেশে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাস দমনে সেনাবাহিনীর চলমান তৎপরতার অংশ হিসেবে এই অভিযানটি পরিচালিত হয়। গোপন সূত্রে খবর আসে যে, বাবুর বাজার এলাকার একটি সাধারণ বসতবাড়িতে কিছু বহিরাগত যুবক সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। সংবাদের সত্যতা যাচাই করে বগুড়া তিন মাথা রেলগেট সংলগ্ন যুব উন্নয়ন ক্যাম্পের লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর আহমেদ তমালের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল বিকেলে ৪টার দিকে এলাকাটি ঘিরে ফেলে। সেখানে জনৈক খোকন মিয়ার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে দুই যুবককে অস্ত্রসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন সেনা সদস্যরা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা শাজাহানপুর উপজেলার বাসিন্দা হলেও ধুনটের এই নিভৃত এলাকায় আস্তানা গেড়েছিলেন। নিচে তাদের পরিচয় ও উদ্ধারকৃত অস্ত্রের তালিকা টেবিল আকারে দেওয়া হলো:
| বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| ১ম আটক ব্যক্তি | রায়হান আলী রানা (৪০), পিতা: ইজার উদ্দিন (শাজাহানপুর) |
| ২য় আটক ব্যক্তি | ফিরোজ পোদ্দার (৩৮), পিতা: জামাল পোদ্দার (শাজাহানপুর) |
| উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র | ০১টি আধুনিক পিস্তল |
| উদ্ধারকৃত দেশীয় অস্ত্র | ০৩টি বড় আকারের চাপাতি |
| অভিযান পরিচালনাকারী | বাংলাদেশ সেনাবাহিনী (যুব উন্নয়ন ক্যাম্প) |
| অভিযানের সময়কাল | ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬; বিকেল ৪:০০ ঘটিকা |
অভিযান শেষে ধুনট থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয় এবং আটককৃতদের পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়। ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। তারা কোনো বড় ধরনের ডাকাতি বা নাশকতার পরিকল্পনা করছিল কি না, তা বের করতে নিবিড় তদন্ত শুরু হয়েছে। উদ্ধারকৃত পিস্তলটি কোনো অপরাধমূলক কাজে ইতিমধ্যে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তাও ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
ধুনটের সাধারণ মানুষের মধ্যে এই অভিযানের ফলে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়দের মতে, বহিরাগতদের ভাড়া দেওয়ার আগে পরিচয় নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা এই ঘটনার মাধ্যমে পুনরায় প্রমাণিত হলো। সেনাবাহিনী ও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরাধী যেই হোক না কেন, অস্ত্র ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য