রাজশাহী ও কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অসাধু উপায়ে উত্তর সরবরাহের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মোট ১৭ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পৃথক দুটি অভিযানে পুলিশ ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) এই গ্রেপ্তার কার্যক্রম পরিচালনা করে। ঘটনায় রাজনৈতিক পরিচয়সম্পন্ন ব্যক্তির জড়িত থাকার তথ্য সামনে আসায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় শুক্রবার দুপুরে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার সময় পরীক্ষা কেন্দ্রের পাশের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে আটক করে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন প্রক্সি পরীক্ষার্থীও রয়েছেন। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রথমে ছয়জনকে আটক করা হয়। পরে একই এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে আরও পাঁচজনকে আটক করা হলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১১ জনে। তাদের কাছ থেকে বিশেষ প্রযুক্তিসম্পন্ন ডিজিটাল ডিভাইস, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্রের কপি উদ্ধার করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মিনারুল ইসলাম নামের একজন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা রয়েছেন। তিনি নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। তাঁর সঙ্গে আটক অন্যদের মধ্যে বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে পরীক্ষায় অনিয়মের মাধ্যমে প্রার্থীদের সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লা হিল জামান জানান, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষাকেন্দ্র ঘিরে সক্রিয় ছিল এবং ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কাছে উত্তর পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
এদিকে রাজশাহীতে পৃথক অভিযানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর মালোপাড়া কমিউনিটি ব্যাংকের এটিএম বুথ এবং উপশহর সৃষ্টি স্কুলের সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আরএমপির গণমাধ্যম শাখা জানায়, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে পরীক্ষার্থীদের স্বাক্ষরযুক্ত ফাঁকা স্ট্যাম্প, ব্যাংকের ফাঁকা চেক, প্রবেশপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং সাতটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এই সিন্ডিকেটটি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে আগাম অর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহ করে পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তর সরবরাহের মাধ্যমে একটি বড় ধরনের প্রতারণামূলক নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিল।
আটক ও জব্দকৃত তথ্য সংক্ষেপে
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| মোট আটক | ১৭ জন |
| নাগেশ্বরীতে আটক | ১১ জন (একজন প্রক্সি পরীক্ষার্থীসহ) |
| রাজশাহীতে আটক | ৬ জন |
| জব্দকৃত সামগ্রী | ডিজিটাল ডিভাইস, প্রশ্ন-উত্তরের কপি, মোবাইল ফোন |
| রাজনৈতিক পরিচয় | একজন স্থানীয় বিএনপি নেতা |
এই ঘটনায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসন জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এই ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।
