খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই ডিসেম্বর ২০২৫, ৪:২০ এএম
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) স্বতন্ত্র চাকরি-বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়ায় আসন্ন শুক্রবার ১২ ডিসেম্বর সকাল ৭টা থেকে মেট্রোরেলের সব ধরনের যাত্রী সেবা বন্ধ করে সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একই সঙ্গে প্রতিদিন ডিএমটিসিএল প্রধান কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন তারা।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
Table of Contents
২০১৩ সালে ডিএমটিসিএল প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১২ বছর পার হলেও এখনো প্রায় ৯০০-এর বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য স্বতন্ত্র চাকরি-বিধিমালা চূড়ান্ত হয়নি।
২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর বাণিজ্যিক অপারেশন শুরুর পর উন্মুক্ত নিয়োগে যোগ দেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন-রাত দায়িত্ব পালন করলেও তারা এখনও বঞ্চিত ছুটি, সিপিএফ, গ্র্যাচুইটি, শিফট-অ্যালাউন্স, ওভারটাইম, গ্রুপ ইনস্যুরেন্সসহ নানা মৌলিক সুবিধা থেকে।
| বিষয় | সময়সীমা / সিদ্ধান্ত | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|
| উপদেষ্টা কমিটির নির্দেশনা | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ → ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে সার্ভিস রুল | বাস্তবায়ন হয়নি |
| কর্মচারীদের আন্দোলন শুরু | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | আলোচনায় অগ্রগতি নেই |
| কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি | ২০ মার্চের মধ্যে সার্ভিস রুল চূড়ান্ত | বাস্তবায়িত হয়নি |
| সর্বশেষ আলটিমেটাম | ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | সার্ভিস রুল প্রকাশ হয়নি |
এসব ব্যর্থতার কারণে ৯ মাস ধরে কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকে।
১০ ডিসেম্বর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে বৈঠকে জানানো হয়—সার্ভিস রুলের সব ধারায় পরিচালনা পর্ষদ একমত হলেও ‘বিশেষ বিধান’ সংক্রান্ত একাদশ অধ্যায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই অধ্যায়ে রয়েছে মেট্রোরেলের প্রকল্পের জনবলকে ডিএমটিসিএলে আত্মীকরণ করার বিধান।
কর্মচারীদের দাবি,
এই বিধান বাংলাদেশের প্রচলিত আইনবিরোধী,
এমনকি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।
কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, পরিচালনা পর্ষদ ‘বিতর্কিত বিধান’ বাদ দিতে আগ্রহী হলেও ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষের চাপেই সার্ভিস রুল প্রকাশ বিলম্বিত হচ্ছে।
৯ ডিসেম্বরের মধ্যে সার্ভিস রুল প্রকাশ না হওয়ায় কর্মচারীরা জানান—
১১ ডিসেম্বরের মধ্যেও সার্ভিস রুল চূড়ান্ত না হলে ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে মেট্রোরেলের সব যাত্রীসেবা বন্ধ থাকবে।
তাদের ভাষ্য—
“এতে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়লেও দায় নিতে হবে ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষকে। আমরা বাধ্য হয়েই কর্মবিরতিতে যাচ্ছি।”
শুধু কর্মবিরতিই নয়, প্রতিদিন ডিএমটিসিএল প্রধান কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি চলবে নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে।
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী—
চাকরি-বিধিমালা না থাকায় ক্যারিয়ার নিরাপত্তা নেই,
বেতন-সুবিধা অনিশ্চিত,
ন্যায্য অধিকার ঝুঁকিতে।
সকলে এক মত—
“চাই প্রকাশিত সার্ভিস রুল। আশ্বাস দিয়ে আর সমাধান নয়।”
মন্তব্য