রাজধানীর রায়ের বাজার এলাকায় গত বুধবার মধ্যরাতে আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুল (২৮) নামের এক যুবক ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তিনি তাঁরই পরিচিত কয়েকজন সহযোগীর হাতে ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারান। ঘটনাটি ঘটার পরপরই তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত আসাদুল হক মোহাম্মদপুর এলাকার মেট্রো হাউজিং এলাকায় বসবাস করতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি বরিশালের গৌরনদী উপজেলায়। তাঁর পিতার নাম জলিল সরদার। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মাদক ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট পাঁচটি মামলা ছিল।
তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার ফজলুল করিম গণমাধ্যমকে জানান, বুধবার দিবাগত রাত বারোটার কিছু সময় পর আসাদুল তাঁর কয়েকজন সহযোগীর সঙ্গে রায়ের বাজার এলাকার সাদেক খান ইটখোলা এলাকায় যান। সেখানে অবস্থানকালে তাঁদের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সেই কথাকাটাকাটি সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং তাঁর সঙ্গে থাকা সহযোগীরাই তাঁকে ছুরিকাঘাত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাটি ঘটে আনুমানিক রাত পৌনে একটার দিকে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, ঘটনাস্থল থেকে আসাদুল হকের পকেট থেকে একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ওই ছুরিটি ঘটনাস্থলের ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং পুরো পরিস্থিতি উদঘাটনের জন্য তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ঘটনার পর রায়ের বাজার ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করেছেন।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহত ব্যক্তির নাম | আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুল |
| বয়স | ২৮ বছর |
| ঘটনার সময় | বুধবার মধ্যরাতের পর |
| ঘটনার স্থান | রায়ের বাজার, সাদেক খান ইটখোলা এলাকা |
| মৃত্যু স্থান | শহীদ সোহরাওয়ার্দী চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতাল |
| মৃত্যুর সময় | রাত আনুমানিক পৌনে একটার দিকে |
| পারিবারিক তথ্য | পিতা জলিল সরদার, গ্রামের বাড়ি গৌরনদী, বরিশাল |
| বসবাসের এলাকা | মেট্রো হাউজিং, মোহাম্মদপুর |
| মামলার তথ্য | মাদক ও ছিনতাইসহ পাঁচটি মামলা |
| পুলিশের প্রাথমিক তথ্য | সহযোগীদের ছুরিকাঘাতে মৃত্যু |
| বর্তমান অবস্থা | কেউ আটক হয়নি, তদন্ত চলমান |
স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্র অনুযায়ী, ঘটনাটি আকস্মিক কথাকাটাকাটির মধ্য দিয়ে সহিংসতায় রূপ নেয়। পরে আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ চলছে।
