খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই ডিসেম্বর ২০২৫, ৭:৫৬ এএম

ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই রাশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক ক্রমশ গাঢ় অস্থিরতায় পড়েছে। এই অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জ্বালানি—বিশেষত গ্যাস। দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে ইইউ ঘোষণা করেছে, তারা ২০২৭ সালের মধ্যে রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করবে। এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নয়; বরং এটি ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
Table of Contents
ইউরোপীয় কাউন্সিল জানায়, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে গ্যাস সরবরাহকে “রাজনৈতিক অস্ত্র” হিসেবে ব্যবহার করেছে। ফলে ইউরোপের জ্বালানি সরবরাহ দীর্ঘমেয়াদে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় রাশিয়ার গ্যাস থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরিকল্পনাই এখন বাস্তবায়নের পথে।
চুক্তিটি অত্যন্ত সংগঠিত সময়সীমার মধ্যে ভাগ করা:
কার্যকর: ১ নভেম্বর ২০২৭
কার্যকর: ১ জানুয়ারি ২০২৭
এলএনজি: ২৫ এপ্রিল ২০২৬
পাইপলাইন গ্যাস: ১৭ জুন ২০২৬
এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে চূড়ান্ত অনুমোদন লাগবে, তবে রাজনৈতিক ঐকমত্য ইতোমধ্যে স্পষ্ট।
রাশিয়ার গ্যাস বাদ দিলে:
যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, নরওয়ে থেকে এলএনজি–নির্ভরতা বাড়বে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করতে হবে।
শিল্পকারখানার বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভিন্ন ভিন্ন জ্বালানি প্রয়োজন ও সক্ষমতা এই রূপান্তরকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
ইউরোপের গ্যাস বাজার রাশিয়ার জন্য বহু দশকের আয়–উৎস। ইইউ এই বাজার থেকে বেরিয়ে গেলে রাশিয়ার অর্থনীতিতে চাপ বাড়বে। যদিও রাশিয়া এখন চীন, ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ায় গ্যাস রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, কিন্তু ইউরোপের সমান পরিসরের বাজার পাওয়া তাদের জন্য কঠিন।
এই নিষেধাজ্ঞা বৈশ্বিক গ্যাস বাজারেও বড় পরিবর্তন আনবে।
এলএনজি–র দাম বাড়তে পারে,
নতুন গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পগুলোর অর্থনৈতিক ভারসাম্য বদলাতে পারে,
মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কূটনীতিতে নতুন শক্তিমত্তা দেখা দিতে পারে।
ইইউর এই সিদ্ধান্ত আসলে ইউরোপের জ্বালানি স্বাধীনতার ঘোষণা। রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমাতে একাধিক ধাপ ও বছরব্যাপী প্রস্তুতির প্রয়োজন হলেও, এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে ইউরোপ জ্বালানি–নির্ভর geopolitics থেকে বেরিয়ে নতুন নিরাপত্তা কাঠামোতে প্রবেশ করবে।
মন্তব্য